{{ news.section.title }}
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ২৯ নিহত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক হামলার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তান তালেবানের (টিটিপি) ঘাঁটি ও আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানে একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির, অস্ত্রাগার এবং যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে অবস্থান নেওয়া জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করছিল।
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কাবুল এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযানের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে আফগান তালেবান একাধিকবার দাবি করেছে যে তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচিতে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেড়েছে। পাকিস্তান সরকার বারবার অভিযোগ করেছে যে, আফগান সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত টেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এসব হামলার পেছনে রয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে হামলাকারীরা রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে তিনজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয় এবং আরেকজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরবর্তীতে জানায়, আটক ব্যক্তি আফগান নাগরিক। যদিও কাবুল এখন পর্যন্ত এই দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত-উল-আহরার। এই গোষ্ঠীটি পাকিস্তান তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত হলেও উভয় সংগঠনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেন, সীমান্তবর্তী অভিযানে বিশেষভাবে পাকিস্তান তালেবানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং লজিস্টিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ঘাঁটি থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা পরিচালিত হচ্ছিল।
পাকিস্তান তালেবান বা টিটিপি আফগান তালেবানের একটি পৃথক সংগঠন হলেও দুই গোষ্ঠীর আদর্শগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, টিটিপির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের কিছু সীমান্তবর্তী অঞ্চলে টিটিপির উপস্থিতি রয়েছে। তবে তালেবান সরকার সবসময়ই দাবি করেছে যে, তারা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। গত দুই বছরে সীমান্ত সংঘর্ষ, কাঁটাতারের বেড়া, শরণার্থী প্রত্যাবাসন এবং জঙ্গি কার্যক্রম নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা একাধিকবার বেড়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান মনে করছে, পাকিস্তান এখন সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংসে আরও আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করছে। অন্যদিকে আফগান তালেবান নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সীমান্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে, তাহলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।