মার্কিন পাসপোর্টে নিজের ছবি যুক্ত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন পাসপোর্টে নিজের ছবি যুক্ত করলেন ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের একটি বিশেষ স্মারক পাসপোর্ট উন্মোচন করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন এই পাসপোর্টে প্রথমবারের মতো দায়িত্বে থাকা কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি, স্বাক্ষর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক আবেদনকারীর কাছে এটি ইস্যু করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

শুক্রবার (২৭ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নতুন পাসপোর্টের নকশার একাধিক ছবি প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পাসপোর্টের একটি পাতায় হোয়াইট হাউসের রেজল্যুট ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্পের তিন-চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে তাকে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। প্রতিকৃতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ সংযোজন করা হয়েছে এবং নিচে রয়েছে তার স্বাক্ষর।

 

এই প্রতিকৃতিটি ধারণ করেছেন হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরক। একই ছবি বর্তমানে স্মিথসোনিয়ানের ‘আমেরিকাস প্রেসিডেন্টস’ প্রদর্শনীতেও স্থান পেয়েছে।

 

নতুন পাসপোর্টের ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট-স্বাগতম, তবে ভালো আচরণ করবেন!" যদিও তিনি যে নকশার ছবি প্রকাশ করেছেন, সেখানে ওই বাক্যটি দৃশ্যমান ছিল না।

 

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসও নিজেদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নতুন পাসপোর্টের ছবি প্রকাশ করে এটিকে "প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট" হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী স্মরণে এই সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে এটি ইস্যু শুরু হবে এবং নির্ধারিত মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীরা এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

তবে এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। অনলাইন বা ডাকযোগে এর জন্য আবেদন করা যাবে না। আগ্রহীদের ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এছাড়া পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্ধারিত বিশেষ গ্রহণ কার্যক্রমেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আবেদন করা যাবে। বর্তমানে এমন দুটি বিশেষ আয়োজনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি যোগ করা হতে পারে।

 

যারা ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সরাসরি আবেদন করবেন, তারা চাইলে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন।

 

বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে চাঁদে মানুষের অবতরণ, স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক বিভিন্ন দৃশ্য ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন স্মারক সংস্করণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতিকে কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন।

 

পররাষ্ট্র দপ্তর প্রথম চলতি বছরের এপ্রিলে এই স্মারক পাসপোর্টের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সংস্করণে প্রাথমিক নকশার তুলনায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম নকশায় কেবল ট্রাম্পের মুখাবয়ব ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তার স্বাক্ষর ছিল সোনালি রঙে। চূড়ান্ত সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, স্বাক্ষর রাখা হয়েছে কালো রঙে এবং পেছনের কভারে যুক্ত করা হয়েছে সোনালি পতাকার নকশাসহ "Freedom 250" প্রতীক। পাশাপাশি সোনালি রঙে "250" সংখ্যাও সংযোজন করা হয়েছে।

 

ট্রাম্পের প্রতিকৃতির চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। বিপরীত পাতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের একটি দৃশ্য, যা শিল্পী জন ট্রাম্বুলের বিখ্যাত ঐতিহাসিক চিত্রকর্মের অনুসরণে তৈরি। মূল চিত্রকর্মটি বর্তমানে ইয়েল ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দায়িত্বে থাকা জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি সরকারি পাসপোর্টে যুক্ত হওয়ার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে নতুন পাসপোর্টটি প্রকাশের পর থেকেই এটি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

শুধু পাসপোর্টই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রতিকৃতি সংবলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ব্যাংকনোটে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

 

এর আগে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও প্রতিকৃতি যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে নিজের নাম সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া প্যারিসের আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের আদলে ওয়াশিংটনে ‘আর্ক ডি ট্রাম্প’ নামে একটি বিশাল বিজয়তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ