{{ news.section.title }}
এবার ইউরোপীয় পণ্যে ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (ডিএসটি) আরোপের পরিকল্পনা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের কর আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স চালুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি এ পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অনেক ইউরোপীয় দেশ আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স আরোপের আলোচনা করছে। কেউ যদি এই কর আরোপ করে, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এই শুল্ক বিদ্যমান যেকোনো বাণিজ্য চুক্তির ওপরও প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ আগে স্বাক্ষরিত বা কার্যকর থাকা কোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিও এ সিদ্ধান্ত ঠেকাতে পারবে না।
ইউরোপের ডিজিটাল কর নিয়ে পুরোনো বিরোধ
ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুগল, অ্যাপল, মেটা, অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের যুক্তি, এসব কোম্পানি ইউরোপে বিপুল আয় করলেও স্থানীয় পর্যায়ে তুলনামূলক কম কর দেয়।
ফ্রান্স ২০১৯ সালে ৩ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স চালু করে। পরে যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেনসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও একটি সমন্বিত ডিজিটাল কর কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স কার্যকর রয়েছে। ব্রিটিশ ট্রেজারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কর থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিয়েই মূল বিরোধ এই করের আওতায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাপল, গুগল, মেটা, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব কর মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোকেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি মুক্তবাণিজ্যের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় কমিশন ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে জানিয়েছে, করনীতি নির্ধারণ করা প্রতিটি দেশের সার্বভৌম অধিকার। ব্রাসেলসের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ইউরোপও প্রয়োজনীয় জবাব দেবে।ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও অতীতে একই ধরনের মার্কিন চাপ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ডিজিটাল করের সিদ্ধান্ত ইউরোপ নিজের স্বার্থ বিবেচনায় নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন ঝুঁকিতে
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছিল, যার আওতায় অধিকাংশ পণ্যের ওপর শুল্কসীমা ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ডিজিটাল করের বিষয়টি তখনও অমীমাংসিত ছিল। ট্রাম্প এখন স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান সব বাণিজ্য চুক্তিকে অকার্যকর করে দিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে অবশ্য এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প অতীতেও একই ধরনের শুল্ক হুমকি দিয়েছেন, যার অনেকগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি এই শুল্ক বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে ইউরোপীয় গাড়ি, খাদ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং শিল্পপণ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন ভোক্তাদের জন্যও আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে।
নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং করনীতিকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক মাসে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ডিজিটাল কর নীতিতে অটল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শুল্ক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে এই বিরোধ বৈশ্বিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স