{{ news.section.title }}
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কোনো সরাসরি বৈঠক হচ্ছে না: কাতার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেটিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
মঙ্গলবার দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, তাঁর জানা মতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠকের সময়সূচি নেই। তিনি জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তবে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার দোহায় সফর করবেন এবং ইরান ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেবেন। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে কাতারে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানও কাতারের বক্তব্যের সঙ্গে প্রায় একই অবস্থান নিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো প্রযুক্তিগত বা রাজনৈতিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, কাতারের মাধ্যমে আলোচনা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকলেও দোহায় দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকের খবর নিশ্চিত নয়।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গরিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে দুই দেশের সরাসরি বৈঠক নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান দোহায় আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং নতুন বৈঠকের উদ্যোগ তেহরানের পক্ষ থেকেই এসেছে। তবে এই বক্তব্য দ্রুতই অস্বীকার করে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, কোনো পর্যায়েই নতুন আলোচনা নির্ধারিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে সরাসরি সংলাপের ক্ষেত্রেও এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান বিনিময় করছে।
দোহা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাতার একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেও জানিয়েছিল যে তারা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জ্বালানি রপ্তানি এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোর প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশও এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলটির দেশগুলো এখন আরও নিশ্চিত অগ্রগতি ছাড়া বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
তবে কাতার এখনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নতুন বৈঠকের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স