{{ news.section.title }}
দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান
শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার ছেলে যোশিথা রাজাপাকসার নৌবাহিনীতে নিয়োগ ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যোশিথা রাজাপাকসাকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে সরকারি অর্থ ব্যয়ে তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে ওয়াসান্থা কারান্নাগোদা এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়েছিলেন।
যোশিথা রাজাপাকসাকে গত মাসে একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ডার্টমাউথ নেভাল কলেজে সরকারি অর্থে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
যদিও ২০১৯ সালে ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে সম্মানসূচক ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদে উন্নীত করা হয়েছিল, বর্তমানে তিনি নৌবাহিনীর কোনো দায়িত্বে নেই।
দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াও কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাজ্য তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ তরুণকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ২০২১ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমন ও আলোচিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে। এরপর থেকেই রাজাপাকসা পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে।
যোশিথা রাজাপাকসার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, একটি বাড়ি কেনার অর্থ তিনি খালার দেওয়া মূল্যবান রত্ন বিক্রি করে সংগ্রহ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট রত্নের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তার খালা।
এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসার বিরুদ্ধেও ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে বোমা হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। সম্প্রতি তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।