{{ news.section.title }}
ভয়াবহ বন্যায় আইভরি কোস্টে প্রাণহানি ৫৯
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড় ধস, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং অব্যাহত উদ্ধার অভিযানের কারণে দেশটিতে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার (২৭ জুন) থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানের কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সরকারি মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি জানিয়েছেন, আবিদজানের ইয়োপুগন ও আত্তেকুবে পৌর এলাকায় পাহাড় ধসে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় পুরো বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে।
জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী মিস বেলমন্ডে ডোগো বলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সহায়তা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বন্যার কারণে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।
এদিকে আইভরি কোস্টের পাশাপাশি প্রতিবেশী ঘানাতেও ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজধানী আক্রাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার পানি বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে।
ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা মারিয়াম ডংয়েলা মিল্লাহ জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী আক্রার অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ঘানার জাতীয় ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যালেক্স কিং নার্তে বলেন, আক্রা ও পার্শ্ববর্তী টেমা শহরের বহু রাস্তা এবং আবাসিক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়েছে।
ঘানায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে এক মা ও তার শিশু সন্তানও রয়েছেন, যারা ঢলের পানিতে ভেসে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জলমগ্ন সড়কে অসংখ্য যানবাহন আটকে রয়েছে। অনেক মানুষ কোমর বা বুকসমান পানি অতিক্রম করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।