{{ news.section.title }}
টানা দরপতনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। টানা কয়েক দিনের দরপতনের পর মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম সাত মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বুধবারও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার নীতি এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার গ্রিনিচ সময় ০১:১২ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮১.৬৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৪.৪০ ডলারে দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদহার সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও বাজারে এখন মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ফেডারেল রিজার্ভ আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং তেলের দামের পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদহারের পরিবেশে এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম কমেছে, যদিও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। শিল্পখাতে চাহিদা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এসব ধাতুর দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে গত চার মাস ধরে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও বর্তমানে বাজারের চিত্র ভিন্ন। উচ্চ সুদহার, শক্তিশালী ডলার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রভাব এখন মূল্যবান ধাতুর বাজারকে চাপে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আরও বাড়ায়, তাহলে স্বর্ণের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুনরায় বেড়ে গেলে কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আবারও বাড়তে পারে। ফলে বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।