{{ news.section.title }}
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ ত্রাণকর্মী
দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে মানবিক সহায়তাবাহী একটি ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোমবার জংলেই অঙ্গরাজ্যের ডুক কাউন্টিতে স্থানীয় অংশীদার সংস্থার পরিচালিত একটি মানবিক সহায়তাবাহী বহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
স্টিফেন ডুজারিক বলেন, হামলার সময় বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তাবাহী হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ফলে ত্রাণকর্মীদের লক্ষ্য করে এমন হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ডুজারিক বলেন, হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
হামলার শিকার বহরটি পরিচালনা করছিল স্থানীয় মানবিক সংস্থা জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহযোগিতায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। ফেরার পথেই সশস্ত্র হামলার শিকার হন তারা।
জেডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। নিহত কর্মীরা স্থানীয় জনগণের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
এদিকে দক্ষিণ সুদানে সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন (ইউএনএমআইএসএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে সহিংস ঘটনায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৮৯ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দক্ষিণ সুদান রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ, জাতিগত সংঘাত এবং মানবিক সংকটে জর্জরিত। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকটে ভুগছেন।