{{ news.section.title }}
খামেনির শেষ বিদায়ে নেই সৌদি প্রতিনিধির কেউ
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠালেও সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি তেহরানে যাননি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও এই আয়োজনে অংশ না নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ইরান আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। শুক্রবার বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে মরদেহ প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কফিন উন্মুক্ত স্থানে রাখা হবে, যেখানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে তেহরান।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, সংসদীয় প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকরা তেহরানে উপস্থিত হলেও সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দেয়নি। সংবাদমাধ্যম ‘হাউজ অব সৌদ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি চূড়ান্ত করা হয়নি।
এই অবস্থান বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ২০২৪ সালে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই তুলনায় খামেনির শেষ বিদায়ে সৌদি অনুপস্থিতি কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শুধু সৌদি আরবই নয়, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের বেশ কয়েকটি দেশও এখন পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠায়নি। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এই অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকতে চাইছে এসব দেশ।
খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।