{{ news.section.title }}
হরমুজ প্রণালিতে মাইন সরাতে কত সময় লাগবে যুক্তরাষ্ট্রের?
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পাতা নৌ-মাইন পুরোপুরি অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে দেওয়া এক গোপন ব্রিফিংয়ে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। একই তথ্য গালফ নিউজও প্রকাশ করেছে। এই মূল্যায়ন সামনে আসায় স্পষ্ট হয়েছে, হরমুজে সামরিক উত্তেজনা কমলেও নৌ-নিরাপত্তা সংকট দ্রুত কাটছে না।
এপি-র তথ্য অনুযায়ী, ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার এবং সেখানে পেন্টাগন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানান, প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে কয়েক মাস লাগতে পারে। বিষয়টি জানানো ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই প্রক্রিয়া সহজ হবে না, কারণ কোথায় কত মাইন পাতা হয়েছে, তার পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সও ১৭ এপ্রিলের এক নৌ-উপদেষ্টা নোটিশে জানিয়েছিল, হরমুজের কিছু অংশে মাইনের হুমকি “পুরোপুরি বোঝা যায়নি” এবং নাবিকদের ওই এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদের ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতারা শুধু মাইন অপসারণ নয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান, তার ব্যয়, লক্ষ্য এবং সামগ্রিক কৌশল সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে চান। কিন্তু ব্রিফিং শেষে অনেক প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি। এপি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আবারও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে মাইন, গোলাবর্ষণ বা জাহাজ জব্দের মতো ঘটনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বীমা ব্যয় এবং বাণিজ্য প্রবাহের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান ৪ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের সঙ্গেও এই উত্তেজনার ধারাবাহিকতা মেলে। এপি জানিয়েছে, ১৮ এপ্রিল ইরান আবার পুরো প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং কয়েকটি জাহাজে গুলি চালায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ চালু রাখে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এপি জানায়, ইরান তিনটি জাহাজে হামলা চালায়, যার মধ্যে দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়। ওই একই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও বাস্তবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কিছু জাহাজকে শর্তসাপেক্ষে যেতে দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক অপারেটর এখনো অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছে।
মাইনমুক্ত করার কাজ কেন এত সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তারও কিছু কারণ উঠে এসেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি কৌশলগতভাবে এমনভাবে মাইন ফেলেছে, যাতে মূল ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের রুটও অনিরাপদ হয়ে পড়ে। রয়টার্সের নৌ-পরামর্শেও বলা হয়, জাতিসংঘ-স্বীকৃত এই রুটের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে শুধু মাইন অপসারণ করলেই হবে না; পুরো নেভিগেশন করিডর নিরাপদ ঘোষণা করতেও বাড়তি সময় লাগবে।
আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো, মাইন অপসারণ অভিযান সামরিকভাবে সংবেদনশীল। গালফ নিউজের ১১ এপ্রিলের আপডেটে বলা হয়েছিল, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে নিরাপদ নৌপথ তৈরির জন্য মাইন ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করেছে। তবে এখনকার মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দীর্ঘ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক ঘোষণা এলেই হরমুজ তাৎক্ষণিকভাবে পুরোনো অবস্থায় ফিরবে না।