দীর্ঘ ১১৫ দিন পর হরমুজ পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

দীর্ঘ ১১৫ দিন পর হরমুজ পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১৫ দিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে নিরাপদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাত্রা শুরু করে।

জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় এর ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক মাস কাটানোর পর স্বস্তি ফিরে এসেছে জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের মধ্যে।

 

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান মঙ্গলবার সকালে হোয়াটসঅ্যাপে গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। আমরা সবাই খুব খুশি। মনে হচ্ছে যেন দীর্ঘদিন পর মুক্তির স্বাদ পেলাম।”

 

তিনি আরও জানান, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছে এবং স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেলে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ফুজাইরা বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় জাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল।

 

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, জাহাজটি যখন হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রম করছিল, তখন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ মন্ত্রণালয় ও বিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজটির অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সমন্বয়ও প্রদান করা হয়।

 

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও সীমিত পরিসরে ইরানের অনুমতি নিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

 

জাহাজটির যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল গত ২ ফেব্রুয়ারি। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করার পর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। তবে এর পরপরই ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে।

 

জাহাজের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর সফলভাবে প্রণালি পার হয়ে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে নাবিকদের মাঝে।

 

দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময়ের এই অপেক্ষার অবসান শুধু জাহাজটির নাবিকদের জন্যই নয়, দেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতের জন্যও একটি স্বস্তিদায়ক সংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ