{{ news.section.title }}
৪৭তম বিসিএসের ফল কবে, জানাল পিএসসি
৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) চূড়ান্ত ফলাফল চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে নম্বর সংকলন, চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন কারিগরি কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কার্যক্রম শেষ হলেই কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে।
৪৭তম বিসিএসকে ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ এবারও অনেক বেশি। কারণ দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর এখন সবাই চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় সামনে আসতেই নতুন করে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদসংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা।
বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বিসিএসে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদ এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদ রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকলেও তা এখনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করা হয়নি। তাই ফল প্রকাশের আগে নতুন করে শূন্যপদ যোগ করে নিয়োগের সুযোগ বাড়ানো উচিত।
প্রার্থীদের ভাষ্য, অতীতেও এমন নজির রয়েছে। ৩৮তম বিসিএসে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে প্রায় ৪০০টি ক্যাডার পদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। একইভাবে ৪১তম বিসিএসেও শেষ মুহূর্তে আরও ৫২০টি ক্যাডার পদ যোগ করা হয়। ফলে অতীতের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় এবারও সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত শূন্যপদ যুক্ত করবে বলে আশা করছেন তারা।
শুধু পদসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, নিয়োগ ব্যবস্থায় কিছু নীতিগত পরিবর্তনের দাবিও তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মতে, 'রিপিট ক্যাডার' ও 'লোয়ার ক্যাডার' ব্যবস্থা বন্ধ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ আগে থেকেই কোনো ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন আবার একই বা নিম্ন ক্যাডারে সুপারিশ না পান। এতে নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগ আরও বাড়বে এবং শূন্যপদ দীর্ঘদিন খালি থাকার প্রবণতাও কমবে।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বিসিএসের নিয়োগ কার্যক্রম চলার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ইতোমধ্যে অন্য সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে নন-ক্যাডার নিয়োগের আগে প্রার্থীদের নতুন করে পছন্দক্রম (রি-চয়েস) দেওয়ার সুযোগ রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে অনেক শূন্যপদ পূরণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
তবে পদসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, ক্যাডার পদ বৃদ্ধি করার এখতিয়ার কমিশনের একার নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নতুন চাহিদাপত্র (রিকুইজিশন) পাঠানো হলে তবেই কমিশন অতিরিক্ত পদে সুপারিশ করতে পারবে। এখন পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কমিশনের কাছে আসেনি।
অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আকনুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে পদ বৃদ্ধি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
উল্লেখ্য, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা চলতি বছরের মে মাসে শুরু হয়ে সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে বিসিএস নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে সরকারি কর্ম কমিশন। পিএসসি জানিয়েছে, 'ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার' রোডম্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫০তম বিসিএস থেকে এক বছরের মধ্যেই একটি বিসিএসের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর দৃষ্টি এখন পিএসসির দিকে। ফলাফল কবে প্রকাশ হবে, পদসংখ্যা বাড়বে কি না এবং প্রার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়-এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।