২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৭০৮

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৭০৮
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৯ জনের শরীরে হাম অথবা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৪৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও উপসর্গ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৯ জনে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ১১ হাজার ৫৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৮ হাজার ২৬৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় রোগটির বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।

 

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এছাড়া ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭০৮ জনে পৌঁছেছে।

 

হামের সংক্রমণ বাড়ার কারণে দেশের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৯৫৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ২৮৭ জন। তবে এখনো অনেক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশা, টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে আগামী দিনে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


সম্পর্কিত নিউজ