{{ news.section.title }}
সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আবারও ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশের ১১ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোকে নিরাপদে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা যায়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের আরেকটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুধু ১১ জেলা নয়, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগেই দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চমকানো এবং অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে খোলা জায়গায় অবস্থানকারী মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে এসব অঞ্চলের নিচু এলাকা ও শহরাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ভূমিধসের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়া অধিদফতরের পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্তমানে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে, যা বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ করেই কালো মেঘ সৃষ্টি হয়ে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাত অন্যতম বড় প্রাকৃতিক ঝুঁকি। তাই বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠ, নদী, বিল, জলাশয় কিংবা বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের বজ্রবৃষ্টির সময় মাঠে কাজ না করা এবং নৌযানচালকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে ঝড়, বজ্রবৃষ্টি এবং ভারি বর্ষণের এই প্রবণতা সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও হতে পারে। ফলে নদীপথ, উপকূলীয় এলাকা এবং নিচু অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। তাই সাধারণ মানুষ, নৌযানচালক, জেলে ও কৃষকদের নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।