{{ news.section.title }}
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার বা সেসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ভিসা বাতিল, ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় অন্যান্য পদক্ষেপও থাকতে পারে।
শনিবার (২৭ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে ভ্রমণে যাওয়া বিদেশিদের অবশ্যই তাদের ভিসার উদ্দেশ্য অনুযায়ী অবস্থান করতে হবে এবং নিজের খরচ নিজেই বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া বা সেগুলোর অপব্যবহার করলে তা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের মধ্যে পড়তে পারে।
দূতাবাস জানিয়েছে, এই নির্দেশনা শুধু পর্যটকদের জন্য নয়। পর্যটন (বি-১/বি-২), ব্যবসা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা, বিনিময় কর্মসূচি কিংবা ট্রানজিটসহ সব ধরনের অনভিবাসী (Non-Immigrant) ভিসাধারীর ক্ষেত্রেই একই নিয়ম কার্যকর হবে। অর্থাৎ যেসব ব্যক্তি অস্থায়ী উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাদের প্রত্যেককেই এই শর্ত মেনে চলতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে আবেদনকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নিজের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে সক্ষম। ভ্রমণের সময় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হলে তা ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন বা নতুন ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সক্ষমতা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে যারা পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্য কোনো অস্থায়ী উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের ভ্রমণের আগে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি এবং ভিসার সব শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি।
মার্কিন দূতাবাসের এই বার্তা মূলত বিদেশি নাগরিকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, অনভিবাসী ভিসা সাময়িক ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়া বা সেগুলোর অপব্যবহার করলে তা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এর ফলে ভিসা বাতিলসহ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে।