{{ news.section.title }}
আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?
দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়ের পর বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, রোববার (২৮ জুন) দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে আগের দিন ঘোষিত নতুন দামই কার্যকর রয়েছে। ফলে আজও রেকর্ড উচ্চমূল্যে স্বর্ণ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। এতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন এই মূল্য শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত একই দাম বহাল থাকবে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) বা খাঁটি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এই দাম শুধু স্বর্ণের মূল্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অলঙ্কারের নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুরি যোগ হবে। পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না বলে জানিয়েছে বাজুস।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পুরোনো স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। অন্যদিকে রুপার অলঙ্কারের ভ্যাট সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ জুন স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই মূল্য আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে এবং ক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪০ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বছর স্বর্ণের বাজারে প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই দামের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম হ্রাস করা হয়। ধারাবাহিক এই মূল্য পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও সরাসরি পড়ছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতেও স্বর্ণের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই নতুন অলঙ্কার কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।