বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনের

বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনের
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনের

বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, পরিবহন ও শিল্পখাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই ইতিবাচক বার্তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছে।

 

বিডা চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি সংক্রান্ত পূর্বাভাস বা ট্যাক্স আউটলুক উপস্থাপন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার এই উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

 

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি দেশে ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রযুক্তি খাতে শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি দেশে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার উৎপাদনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া এসএফ এক্সপ্রেস মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও বন্ডেড গুদাম সুবিধা গড়ে তুলতে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

 

পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন, লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানা এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।

অন্যদিকে ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তি শিল্পে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

রেল খাতে সিআরআরসি জিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সঙ্গে যৌথভাবে রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে অবকাঠামো খাতে। সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরে নতুন গতি আসতে পারে।

 

শিক্ষা খাতে চায়না কেপাই এডুকেশন গ্রুপ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক স্থাপনে ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।
 


সম্পর্কিত নিউজ