সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়তি সুবিধা, পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকও

সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়তি সুবিধা, পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকও
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরাও বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে একই সময়ে নয়, কিছুটা বিলম্বে তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেলের সুবিধা পেলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

 

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আগের জাতীয় পে-স্কেলগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল কার্যকর হয়, পরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা হয়। এবারও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।

 

তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম পে-স্কেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একই দিনে এটি কার্যকর হবে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

 

এদিকে নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিক কত শতাংশ বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবে সব গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসিক ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক ৬০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বেসিক বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত কাঠামো প্রকাশ করা হবে। এর আগে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নতুন স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।

 

এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে একই সময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও পে-স্কেল কার্যকরে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

 

এখন সরকারি ঘোষণা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।


সম্পর্কিত নিউজ