দেশে ২৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে

দেশে ২৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হামের টিকাদান কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

সরকারের লক্ষ্য আরও বড়-মোট ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে এখনো বড় একটি অংশকে টিকার আওতায় আনতে হবে, তবে চলমান অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ ব্রিফিংয়ে শুধু টিকাদান নয়, সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৬১ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে করে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষিখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে আরও বিস্তৃত ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীতে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। যদিও শুরুতে কিছু আশঙ্কা ছিল, শেষ পর্যন্ত উৎসবটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও বর্ণাঢ্য-এমন মূল্যায়নই এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

সরকারের পরিকল্পনা শুধু দেশীয় পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়। আগামী বছর থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে নববর্ষ উদযাপনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ-যেমন মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং ভারত-একই সময় নববর্ষ উদযাপন করে। এসব দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি যৌথ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগকে সাংস্কৃতিক কূটনীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যতে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসবেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও বিদেশে যাবেন-এমন পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত নওরোজ উৎসবের মতো সম্মিলিত আয়োজনের ধারণা থেকেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল সংস্কৃতির বিস্তারই নয়, বরং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ বাড়িয়ে জাতীয় পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ