{{ news.section.title }}
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফুয়েল লোডিং’ কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু হচ্ছে। এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। কারণ, এই পর্যায় থেকেই নির্মাণাধীন প্রকল্প বাস্তব উৎপাদনমুখী পর্যায়ে প্রবেশ করে।
ফুয়েল লোডিং বলতে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের কোরে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ইউরেনিয়ামভিত্তিক জ্বালানি স্থাপন করাকে বোঝায়। সাধারণত স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফুয়েল রড বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে এটি রিঅ্যাক্টরের ভেতরে বসানো হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ব্যবহৃত হবে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর। এর নকশা অনুযায়ী, মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে।
আরো পড়ুন : ফুয়েল লোডিং কী এবং এর ভূমিকা কী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুয়েল লোডিং মানেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত সতর্ক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার সূচনা। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শৌকত আকবর বলেন, এটি একটি বড় মাইলফলক। কারণ, এর মাধ্যমে প্রকল্প নির্মাণ পর্যায় পেরিয়ে পরিচালনামুখী ধাপে প্রবেশ করে।
ফুয়েল লোডিংয়ের পর কী হয়
জ্বালানি স্থাপনের পর রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হয়। এটিকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে পূর্ণ ক্ষমতার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ স্তরে চালিয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও নিউক্লিয়ার প্যারামিটার পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয় ৩%, ৫%, ১০%, ২০% এবং ৩০% পর্যন্ত। রিঅ্যাক্টর ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়।
কীভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হয়
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ দিয়ে পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করা হয়। উচ্চচাপের বাষ্প টারবাইন ঘোরায়, আর টারবাইন জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
কেন এটি বড় খবর
মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন সম্ভব, যেখানে একই শক্তির জন্য কয়েক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। ফলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, স্থিতিশীল এবং কম কার্বন নির্গমনকারী উৎস।
পূর্ণ উৎপাদনে কত সময়
ফুয়েল লোডিং থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে। সব পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টর প্রায় ৯০ শতাংশ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।