নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে ভিসা আবেদন বাতিল

নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে ভিসা আবেদন বাতিল
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ | ছবি: জাগরণ

শুধু সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। এ ধরনের উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার করলে আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে দূতাবাসের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, কেউ যদি শুধুমাত্র সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে তা ভিসার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে। এমন ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন।

 

‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে কড়াকড়ি

দূতাবাসের এই বার্তাটি মূলত তথাকথিত “বার্থ ট্যুরিজম” বা বিদেশে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কোনো শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়-এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই পর্যটক ভিসায় সেখানে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করে আসছে এবং ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হয়।

 

ভিসা মানেই প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়

এর আগেও দূতাবাস একাধিকবার সতর্ক করেছে যে, ভিসা পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। দেশটিতে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে।

দূতাবাস জানিয়েছে, একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন কি না এবং কতদিন সেখানে থাকতে পারবেন-এসব বিষয় নির্ধারণ করেন প্রবেশপথে দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। ফলে বৈধ ভিসা থাকলেও সন্দেহ হলে কাউকে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

 

নিয়ম ভাঙলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

ভিসাধারীদের জন্য আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে-

  • নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা
  • ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কাজ করা (যেমন পর্যটক ভিসায় চাকরি করা)

এসবকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ওপর স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

 

অতিরিক্ত যাচাই ও কঠোর নজরদারি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পূর্বের ভ্রমণ ইতিহাস এবং দেশে ফেরার নিশ্চয়তা-সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হয়।

এছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা হতে পারে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি চিকিৎসা বা পর্যটনের বৈধ কারণেই হচ্ছে, নাগরিকত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।

 

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ

ভিসা বিশেষজ্ঞদের মতে-

  • ভিসা আবেদনে সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  • ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করা উচিত নয়
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ প্রস্তুত রাখা উচিত

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা এবং স্বচ্ছ উদ্দেশ্য প্রদর্শন করাই ভিসা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ