{{ news.section.title }}
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী, সতর্কবার্তা
দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাব কেবল সাময়িক নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ভারী বর্ষণ, তীব্র দমকা হাওয়া এবং ঘন ঘন বজ্রপাত-যা জনজীবন, কৃষি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও এই বেগ আরও বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত এবং কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ মে থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত কমে আসবে এবং তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে, যা বোরো ধানসহ মৌসুমি ফসলের ক্ষতি করতে পারে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, নগরাঞ্চলে এই ঝড়ের কারণে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাওয়ার প্রবণতা থাকায় নাগরিক ভোগান্তি বাড়তে পারে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার কারণে দুর্বল অবকাঠামো, সাইনবোর্ড বা গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটতে পারে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বা ধাতব বস্তুর সংস্পর্শে আসাও বিপজ্জনক হতে পারে। প্রতি বছর বজ্রপাতে দেশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও সতর্কতা জারি রয়েছে। নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কসংকেত বহাল থাকায় মাছধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। দমকা হাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, ঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সচেতনতা ও প্রস্তুতিই এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।