{{ news.section.title }}
ভয়াবহ বায়ুদূষণে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ঢাকা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার নির্গমনের কারণে রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক দিন ধরে আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও সোমবার (১১ মে) সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে ঢাকা।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI স্কোর ছিল ১৯৫। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের বায়ুমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইকিউএয়ারের লাইভ তথ্যেও সোমবার ঢাকার বাতাস ‘Unhealthy’ বা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে দেখানো হয়। একই সঙ্গে ঢাকার বাতাসে PM2.5-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিত মানের তুলনায় ২০ গুণের বেশি ছিল বলে সংস্থাটির তথ্যে দেখা যায়।
একই সময়ে ১৫৭ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের দিল্লি। ১৫৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের ছাংডুর স্কোর ছিল ১৩৭। আর ১৩০ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। এসব শহরের মধ্যে ঢাকা, দিল্লি ও হ্যানয়ের বাতাস সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে পড়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমানের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্যোগপূর্ণ মাত্রা হিসেবে ধরা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি তথ্যও ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহতা দেখাচ্ছে। আইকিউএয়ারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এবং ওই বছর ঢাকার গড় PM2.5 মাত্রা ছিল ৬৮ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মানের বহু গুণ বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বায়ুমানে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী, হাঁপানি ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অপ্রয়োজনীয় বাইরে থাকা কমানো, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার, খোলা জায়গায় ব্যায়াম এড়িয়ে চলা এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, মানহীন যানবাহন কমানো, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং রাস্তার ধুলা ব্যবস্থাপনায় কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন।