ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
ছবির ক্যাপশান, ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটিতে একই উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। গত ১৭ মার্চ থেকে বুধবার, ১৩ মে পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মৃত দুই শিশুর একজনের বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলায়। অন্য শিশুটির বয়স ১০ মাস এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। তারা উভয়েই কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে একজন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবং অন্যজন বুধবার ভোরে মারা যায়।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর মধ্যে উচ্চ জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা দেখা যাচ্ছে। অনেক শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব শিশু আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিল, তাদের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ জন শিশু। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া অথবা অসম্পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ায় রোগ জটিল হওয়ার পর হাসপাতালে আনছেন। এতে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না দিলে শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

 

ময়মনসিংহ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসকদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা বেড, ওষুধ ও অক্সিজেন সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

অভিভাবকদের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর শরীরে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো বা দেরি করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ এবং টিকাদান কার্যক্রম তদারকির কাজ করছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ