{{ news.section.title }}
২১ এপ্রিলের নামাজের সময়সূচি - কখন কোন নামাজ
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি নির্দেশনা মানুষের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও আত্মিক শান্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য ফরজ। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা অপরিহার্য।
আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩, ২ জিলকদ ১৪৪৭। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলোঃ -
- ফজর: ভোর ৪:১৪ মিনিট
- সূর্যোদয়: সকাল ৫:৩২মিনিট
- জোহর: দুপুর ১১:৫৭ মিনিট
- আসর: বিকাল ৩:২৩ মিনিট
- মাগরিব: সন্ধ্যা ৬:২২ মিনিট
- ইশা: রাত ৭:৪১ মিনিট
আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে।
- তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময়ও ভোর ৪টা ১৩ মিনিট।
- আজ সূর্যোদয় সকাল ৫টা ৩৪ মিনিটে।
- আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে।
বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে নামাজের সময়সূচিতে যে সমন্বয় করতে হবে তা হলোঃ -
- চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট কমাতে হবে।
- সিলেট: ৬ মিনিট কমাতে হবে।
- খুলনা: ৩ মিনিট বাড়াতে হবে।
- রাজশাহী: ৭ মিনিট বাড়াতে হবে।
- রংপুর: ৮ মিনিট বাড়াতে হবে।
- বরিশাল: ১ মিনিট বাড়াতে হবে।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ রয়েছে। এ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আরও কিছু সুন্নতে যায়েদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে আদায় করতেন। আর ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। অন্যদিকে, সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হবে না।
নিচে ওয়াক্তভিত্তিক রাকাতসংখ্যা তুলে ধরা হলোঃ -
ফজর
ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
জোহর
জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
আসর
আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা।
মাগরিব
মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
ইশা
ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব
পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)
ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮)
আখিরাতেও নামাজের হিসাবই হবে সবার আগে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০)
নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষকে আল্লাহর স্মরণে সচল রাখে, আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সময়সূচি জানা, রাকাতের সংখ্যা বোঝা এবং নামাজের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিয়মিতভাবে আদায়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।