{{ news.section.title }}
নকআউটে ১৩ দল, কার প্রতিপক্ষ কে?
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে নকআউট পর্বের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বে। নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ‘রাউন্ড অব ৩২’ যুক্ত হওয়ায় এবার শিরোপার লড়াই আরও দীর্ঘ, আরও জটিল এবং আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো বাকি থাকলেও অনেক বড় দল ইতোমধ্যে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইউরোপিয়ান শক্তি ফ্রান্স ও জার্মানি, স্বাগতিক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩টি দল শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন ধীরে ধীরে সম্ভাব্য নকআউট ম্যাচগুলোর দিকে চলে যাচ্ছে।
বিশেষ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স, ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিল কিংবা আর্লিং হ্যালান্ডের নরওয়ে কার মুখোমুখি হতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
নতুন বিশ্বকাপ, নতুন সমীকরণ
ফিফা এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ১২টি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ উঠবে। এছাড়া ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও জায়গা পাবে নকআউটে। এই নতুন পদ্ধতির কারণে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অধিকাংশ গ্রুপেই উত্তেজনা টিকে আছে। অনেক দল এখনও জানে না তারা সরাসরি উঠবে, তৃতীয় হয়ে উঠবে নাকি বিদায় নেবে। ইতোমধ্যে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে যারা
এখন পর্যন্ত নকআউট নিশ্চিত করেছে-
মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, নরওয়ে, কলম্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ব্রাজিল, মরক্কো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা এই দলগুলোর অনেকেই ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হিসাব শুরু করে দিয়েছে।
নকআউটে কীভাবে হবে লড়াই?
রাউন্ড অব ৩২ থেকে শুরু হবে সরাসরি এলিমিনেশন পর্ব। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল না এলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১৫ মিনিটের দুটি অর্ধেও নিষ্পত্তি না হলে হবে পেনাল্টি শুটআট। ফলে একটি ভুল কিংবা একটি গোলই শেষ করে দিতে পারে কোনো দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
কানাডা–গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ
২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে নকআউটের প্রথম বড় লড়াই। গ্রুপ ‘বি’-এর রানার্সআপ কানাডা মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ দলের। কানাডার আক্রমণভাগ এবারের বিশ্বকাপে দারুণ খেলছে। ফলে এই ম্যাচটি হতে পারে শেষ ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণ।
জার্মানির অপেক্ষা তৃতীয় স্থানের দল
গ্রুপ ‘ই’-এর চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ২৯ জুন ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ অথবা ‘এফ’-এর কোনো তৃতীয় স্থানধারী দল। জার্মানির বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ব্রাজিলের সামনে জাপান, সুইডেন না নেদারল্যান্ডস?
সবচেয়ে বেশি আলোচিত সম্ভাব্য ম্যাচগুলোর একটি ব্রাজিলকে ঘিরে। গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২৯ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে খেলবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দলের বিরুদ্ধে। বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী প্রতিপক্ষ হতে পারে-
- জাপান
- নেদারল্যান্ডস
- সুইডেন
বিশেষ করে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্রাজিলের জন্য এটি মোটেও সহজ ম্যাচ হবে না।
ফ্রান্স ও নরওয়ের জন্য অপেক্ষা
গ্রুপ ‘আই’-এর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ৩০ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে খেলবে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘সি’, ‘ডি’, ‘এফ’, ‘জি’ অথবা ‘এইচ’-এর কোনো তৃতীয় স্থানধারী দল। অন্যদিকে নরওয়েও ইতোমধ্যে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। আর্লিং হ্যালান্ডের দুর্দান্ত ফর্ম তাদেরকে নকআউটের অন্যতম ভয়ংকর দলে পরিণত করেছে।
মেক্সিকোর সামনে অপেক্ষাকৃত সহজ পথ
স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে ৩০ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হবে কোনো তৃতীয় স্থানধারী দল। নিজেদের মাঠের সমর্থন এবং পরিচিত পরিবেশ মেক্সিকোকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
আর্জেন্টিনার জন্য অপেক্ষা কঠিন পরীক্ষা
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলবে। প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ। এই গ্রুপে স্পেন, উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফলে মেসিদের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য শেষ ৩২ সূচি
২৮ জুন
- গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ বনাম কানাডা
২৯ জুন
- জার্মানি বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ ‘সি’-এর রানার্সআপ
- ব্রাজিল বনাম গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ
৩০ জুন
- ফ্রান্স বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- গ্রুপ ‘ই’-এর রানার্সআপ বনাম গ্রুপ ‘আই’-এর রানার্সআপ
- মেক্সিকো বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
১ জুলাই
- গ্রুপ ‘এল’-এর চ্যাম্পিয়ন বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- যুক্তরাষ্ট্র বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- গ্রুপ ‘জি’-এর চ্যাম্পিয়ন বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
২ জুলাই
- গ্রুপ ‘কে’-এর রানার্সআপ বনাম গ্রুপ ‘এল’-এর রানার্সআপ
- গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্সআপ
৩ জুলাই
- সুইজারল্যান্ড বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- আর্জেন্টিনা বনাম গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ
- গ্রুপ ‘কে’-এর চ্যাম্পিয়ন বনাম তৃতীয় স্থানধারী দল
- গ্রুপ ‘ডি’-এর রানার্সআপ বনাম গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ
তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর গুরুত্ব
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোকে ঘিরে। আগের বিশ্বকাপে গ্রুপে তৃতীয় হলেই বিদায় নিতে হতো। এবার সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউটে উঠবে। ফলে স্কটল্যান্ড, সুইডেন, আলজেরিয়া, ইরান, প্যারাগুয়ে কিংবা অস্ট্রিয়ার মতো দলগুলো এখনও আশা ধরে রেখেছে। একটি জয় কিংবা একটি গোলও অনেক দলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
কার পথ সহজ, কার পথ কঠিন?
বর্তমান সমীকরণে মেক্সিকো, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করতে পারে কঠিন পরীক্ষা। বিশেষ করে ব্রাজিল–জাপান, ব্রাজিল–নেদারল্যান্ডস অথবা আর্জেন্টিনা–উরুগুয়ে সম্ভাব্য ম্যাচগুলো ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের কল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে।
শিরোপার পথে বড় লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে
গ্রুপ পর্ব এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু বিশ্বকাপের আসল নাটক যেন এখনই শুরু হয়ে গেছে। মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের সম্ভাবনা, এমবাপ্পের গোলের দৌড়, হ্যালান্ডের উত্থান, ভিনিসিয়ুসদের ছন্দে ফেরা-সব মিলিয়ে নকআউট পর্ব হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিশ্বকাপ অধ্যায়। বাকি ১৯টি দলের পরিচয় জানা গেলেই আরও পরিষ্কার হবে শিরোপার পথ। তখনই বোঝা যাবে কার সামনে অপেক্ষা করছে তুলনামূলক সহজ রাস্তা আর কার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
একটি বিষয় অবশ্য এখনই নিশ্চিত-২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে অনিশ্চিত নকআউট পর্বগুলোর একটি।