{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ৭ দল
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিন্তু শেষ ম্যাচের আগেই সাতটি দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে গেছে। নতুন ফরম্যাটের এই আসরে শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ বত্রিশে জায়গা পাচ্ছে। তারপরও শেষ ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, পানামা, কাতার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। ১২টি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলো থেকে ৩২টি দল নকআউট পর্বে জায়গা পাবে। এমন একটি ফরম্যাটে অনেক দল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আশা ধরে রাখতে পারলেও সাতটি দল আগেভাগেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে।
বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সমান পয়েন্ট হলে প্রথমে দেখা হচ্ছে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল। গোল ব্যবধান বা গোলসংখ্যার আগেই হেড-টু-হেড রেকর্ডকে গুরুত্ব দেওয়ায় কয়েকটি দলের ভাগ্য শেষ ম্যাচের আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।
গ্রুপ ‘এ’: চেক প্রজাতন্ত্রের হতাশাজনক বিদায়
গ্রুপ ‘এ’-তে শুরু থেকেই কঠিন অবস্থায় পড়ে চেক প্রজাতন্ত্র। প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দলটি চাপে পড়ে যায়। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও অন্য দলগুলোর বিপক্ষে মুখোমুখি ফল তাদের বিপক্ষে থাকায় আর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
চেক প্রজাতন্ত্র এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচে একটি ড্র ও একটি হার দেখেছে। আক্রমণভাগে কার্যকর ফুটবল খেলতে না পারা এবং সুযোগ নষ্ট করাই তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রুপ ‘বি’: স্বাগতিক কাতারের ব্যর্থতা
২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার এবারও বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। গ্রুপ ‘বি’-তে টানা ব্যর্থতায় শেষ বত্রিশের আশা শেষ হয়ে যায় তাদের। দুই ম্যাচ শেষে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ ম্যাচের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয় কাতারের। গত বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলটি এবারও একই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে।
গ্রুপ ‘সি’: হাইতির স্বপ্নভঙ্গ
হাইতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পেলেও প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজয়ের কারণে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তারা তিন পয়েন্টে পৌঁছাতে পারত, কিন্তু যেসব দলের সঙ্গে পয়েন্ট সমতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাদের কাছে আগেই হেরে যাওয়ায় আর কোনো সমীকরণ তাদের পক্ষে কাজ করেনি।
দুই ম্যাচে দুটি হার এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা হাইতির বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রুপ ‘ডি’: তুরস্কের অপ্রত্যাশিত বিদায়
ইউরোপীয় ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর একটি তুরস্কের বিদায় অনেককেই বিস্মিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় দলটি চাপে পড়ে। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও হেড-টু-হেড নিয়মের কারণে তারা গ্রুপের অন্য দলগুলোর ওপরে উঠতে পারবে না।
গ্রুপ ‘এফ’: তিউনিসিয়ার হতাশা
আফ্রিকার অন্যতম পরিচিত দল তিউনিসিয়াও শেষ বত্রিশের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে। দুই ম্যাচে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট অর্জন করতে না পারায় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা কার্যত শেষ হয়ে যায়। দলের আক্রমণভাগে ধার না থাকা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা গেছে।
গ্রুপ ‘জে’: জর্ডানের স্বপ্নের ইতি
এশিয়ান কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জর্ডানকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। দুই ম্যাচ শেষে মাত্র একটি পয়েন্ট কিংবা কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে না পারায় তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচ তাদের জন্য শুধুই আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রুপ ‘এল’: পানামার বিদায়
মধ্য আমেরিকার প্রতিনিধি পানামাও বিশ্বকাপে হতাশ করেছে। প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের কারণে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও হেড-টু-হেড ব্যবধানে অন্য দলগুলোর ওপরে ওঠা সম্ভব নয়। ফলে আগেভাগেই বিদায় নিশ্চিত হয় দলটির।
ফিফার নতুন টাইব্রেকার নীতি এবারের বিশ্বকাপে বড় প্রভাব ফেলেছে। আগে গোল ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলই প্রধান বিবেচ্য হওয়ায় অনেক দল শেষ ম্যাচের আগেই ছিটকে গেছে।
অন্যদিকে বেশ কয়েকটি দল এখনও শেষ বত্রিশে ওঠার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। বিশেষ করে সেরা তৃতীয় স্থানধারী আটটি দল নির্ধারণের লড়াই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট যেমন অনেক দলকে অতিরিক্ত সুযোগ দিয়েছে, তেমনি নতুন টাইব্রেকার নিয়ম কিছু দলের জন্য কঠিন বাস্তবতাও তৈরি করেছে। হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, পানামা, কাতার এবং চেক প্রজাতন্ত্র সেই বাস্তবতারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
এখন পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া দলগুলো হলো-
- চেক প্রজাতন্ত্র (গ্রুপ এ)
- কাতার (গ্রুপ বি)
- হাইতি (গ্রুপ সি)
- তুরস্ক (গ্রুপ ডি)
- তিউনিসিয়া (গ্রুপ এফ)
- জর্ডান (গ্রুপ জে)
- পানামা (গ্রুপ এল)
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো শেষে এই তালিকায় আরও কয়েকটি দলের নাম যুক্ত হতে পারে। তবে এই সাতটি দলের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টাইব্রেকারের নিয়মাবলী
যদি গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে ফিফা পর্যায়ক্রমে নিচের নিয়মগুলো দেখে ভাগ্য নির্ধারণ করবে:
১. মুখোমুখি লড়াইয়ের পয়েন্ট: সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে প্রাপ্ত পয়েন্ট।
২. মুখোমুখি লড়াইয়ের গোল ব্যবধান: সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে গোলের ব্যবধান।
৩. মুখোমুখি লড়াইয়ে করা গোল: সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে দেওয়া মোট গোল সংখ্যা।
৪. সামগ্রিক গোল ব্যবধান: গ্রুপের সবগুলো ম্যাচ মিলিয়ে দলটির মোট গোলের ব্যবধান।
৫. সামগ্রিক গোল সংখ্যা: গ্রুপের সবগুলো ম্যাচ মিলিয়ে দলটির দেওয়া মোট গোল সংখ্যা।
৬. ফেয়ার প্লে পয়েন্ট (লাল কার্ড): যে দল সবচেয়ে কম লাল কার্ড পেয়েছে।
৭. ফেয়ার প্লে পয়েন্ট (হলুদ কার্ড): যে দল সবচেয়ে কম হলুদ কার্ড পেয়েছে।
৮. লটারি: উপরের সব বিষয় সমান হলে ফিফা লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।