{{ news.section.title }}
নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচের পর যে বেলজিয়ামকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল, শেষ ম্যাচে সেই দলই যেন নিজেদের প্রকৃত রূপ দেখাল। মিসর ও ইরানের বিপক্ষে জয়হীন অবস্থায় গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা রেড ডেভিলসরা ভ্যাঙ্কুভারে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শুধু নকআউটে ওঠেনি, গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষস্থানও দখল করেছে।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রুডি গার্সিয়ার দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। পুরো ম্যাচজুড়েই বলের দখল, আক্রমণের গতি, সুযোগ তৈরি এবং ফিনিশিং-সব ক্ষেত্রেই নিউজিল্যান্ডকে অনেক পিছনে ফেলে দেয় ইউরোপিয়ান দলটি।
ম্যাচের আগে অবশ্য বেলজিয়ামের ওপর যথেষ্ট চাপ ছিল। প্রথম ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ ড্র এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র তাদের নকআউট সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছিল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া পাঁচটি পরিবর্তন এনে সবাইকে চমকে দেন। রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে শুরু করেন তিনি। সুযোগ পান লিয়ান্দ্রো ত্রোসার, জেরেমি ডকু, চার্লস দে কেতেলারে এবং কেভিন ডি ব্রুইনেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেলজিয়াম। ডকুর গতি এবং ডি ব্রুইনের পাসিং নিউজিল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার সমস্যায় ফেলতে থাকে। প্রথম ২০ মিনিটেই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে পেনাল্টিও পেয়েছিল বেলজিয়াম। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে তাতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি।
২৮ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের নেওয়া কর্নার থেকে নিউজিল্যান্ড ডিফেন্ডার টিম পেইনের শরীরে লেগে বল বক্সের মধ্যে চলে আসে। সেখান থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান লিয়ান্দ্রো ত্রোসার। এই গোলেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
প্রথমার্ধে নিউজিল্যান্ড তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অধিনায়ক ক্রিস উডকে পুরো সময়ই নিয়ন্ত্রণে রাখে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। থিবো কোর্তোয়ার সামনে খুব কমই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনের পাস থেকে প্রথম শটটি ব্লক হলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় গোল করেন ত্রোসার। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আর্সেনাল তারকা।
এরপর পুরোপুরি ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ৬৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন কেভিন ডি ব্রুইনে। দীর্ঘদিন ধরেই বেলজিয়ামের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত এই ফুটবলার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন।
তিন গোল পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। তাদের অন্যতম সেরা ফুটবলার এলিজা জাস্ট কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ৮৪ মিনিটে তিনি গোল করে ব্যবধান কমান।
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমারদের একজন ছিলেন এলিজা জাস্ট। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
মাত্র কয়েক মিনিট আগে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকু ৮৬ মিনিটে গোল করেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আলেক্সিস সেলেমেকার্স আরও একটি গোল করে বেলজিয়ামের ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। বদলি হিসেবে নেমে লুকাকুর গোল এবং আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে দেয় কেন তিনি এখনও বেলজিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার।
বিশ্বকাপে এটি ছিল বেলজিয়ামের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। প্রথম দুই ম্যাচে গোল করতে সমস্যায় ভোগা দলটি এক ম্যাচেই পাঁচ গোল করে সমালোচনার জবাব দিয়েছে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে মিসর ও ইরান ১-১ গোলে ড্র করায় বেলজিয়ামের এই বড় জয় তাদের গ্রুপের শীর্ষে তুলে দেয়। সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় রেড ডেভিলসরা।
নকআউট পর্বে এখন বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি দলের। সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এখনও নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো গ্রুপের তলানিতে থেকে। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে তারা কয়েকটি ইতিবাচক দিকও দেখিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিপক্ষে ড্র এবং এলিজা জাস্টের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগিয়েছে।
রুডি গার্সিয়ার জন্য এই জয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দুই ম্যাচের পর তার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারের এই রাতে তার পরিবর্তনগুলো দারুণভাবে কাজ করেছে। ডকুর গতি, ত্রোসারের ফিনিশিং, ডি ব্রুইনের সৃজনশীলতা এবং লুকাকুর অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে আবারও ভয়ংকর রূপে দেখা দিয়েছে বেলজিয়াম।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে নিজেদের হারিয়ে ফেলা দলটি শেষ ম্যাচে যেন নতুন করে ঘোষণা দিল-রেড ডেভিলসরা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বরং নকআউট পর্বে তারা হয়ে উঠতে পারে যে কোনো দলের জন্য বড় হুমকি।