{{ news.section.title }}
মেসির জর্ডানের বিপক্ষে খেলা না–খেলা নিয়ে কী বললেন স্কালোনি
দুই ম্যাচেই জয়। দুই ম্যাচেই লিওনেল মেসির জাদু। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টানা জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপ থেকে আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও নিজেদের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফলে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি এখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। তবে ম্যাচটির গুরুত্ব একেবারেই নেই, এমনটা বলার সুযোগ নেই। কারণ এই ম্যাচেই আবার মাঠে নামতে পারেন লিওনেল মেসি। যদিও শুরু থেকে নয়, বরং বেঞ্চ থেকেই দেখা যেতে পারে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মেসির খেলা নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি জর্ডানের বিপক্ষেও খেলবেন। তবে তিনি শুরু থেকে থাকছেন না, ‘লিও (মেসি) পরের দিকে মাঠে নামবে। আমি ইতিমধ্যে দল চূড়ান্ত করে ফেলেছি, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। তাই নকআউট পর্বের আগে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার দিকেও নজর দিচ্ছেন স্কালোনি। বিশেষ করে ৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না তিনি।
গত বুধবার ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন মেসি। চলতি উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল এখন পর্যন্ত গোল করেছে ৫টি। সব কটিই করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জর্ডানের বিপক্ষে মেসি নামলে তাঁর গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে বিস্মিত করছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন বয়স তার জন্য শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সেও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, সুযোগ সৃষ্টি, গোল করা এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখনও অনন্য।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কালোনি এবার কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চান। নকআউট পর্বের আগে পুরো স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখাই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।
মেসির বদলি হিসেবে নামা মানে স্বাভাবিকভাবেই জর্ডান ম্যাচে দলে কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন স্কালোনি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসি না খেললে তাঁর জায়গায় খেলবেন তরুণ নিকো পাজ। এ ছাড়া অন্য কয়েকটি পজিশনেও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
অস্ট্রিয়া ম্যাচে মাংসপেশির চোটে ভুগছিলেন গঞ্জালো মন্তিয়েল। তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে এবার রাইটব্যাকে ফিরতে পারেন। লেফটব্যাকে খেলতে পারেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। এই ম্যাচে শুরু থেকেই সুযোগ পেতে পারেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস।তাঁর সঙ্গী হিসেবে দেখা যেতে পারে এজেকিয়েল পালাসিওস অথবা ভালেন্তিন বার্কোকে। উইংয়ে দেখা যেতে পারে জুলিয়ানো সিমিওনে ও জিওভানি লো সেলসোকে।
স্কালোনির পরিকল্পনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য পূরণ করতে চান। প্রথমত, মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, নকআউট পর্বের আগে বিকল্প খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলন করানো।
ম্যাচের আগে মেসিকে নিয়ে কথা বলেছেন তাগলিয়াফিকোও। ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের দাবি, কাতার বিশ্বকাপের মেসির চেয়েও এই মেসি ভালো, ‘মেসি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে। এমনকি আমি বলব, তার চেয়েও ভালো করছে।’
তাগলিয়াফিকোর এই মন্তব্যের পেছনে পরিসংখ্যানও রয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে সাত গোলে অবদান রেখেছিলেন মেসি। এবার মাত্র দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করে তিনি গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এখন নতুন রেকর্ড গড়ার দিকেও তাকিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জর্ডানের বিপক্ষে গোল পেলে সেই ব্যবধান আরও বাড়বে।
মেসির জন্মদিন উপলক্ষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা তাঁকে সম্মান জানাতে বিশেষ নকশার টি-শার্ট পরেছিলেন। সেখানে একটি কেকও কাটা হয়েছিল। মেসির জন্মদিন উদ্যাপন নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এটি বেশ চমৎকার একটি ব্যাপার ছিল। দিন শেষে এগুলো আসলে ছোট ছোট কিছু সুন্দর মুহূর্ত। যখন আপনাকে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকতে হয় এবং প্রতিদিন সবার মুখ দেখতে হয়, তখন বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়, তা তো বুঝতেই পারেন। আমরা সবাই দারুণ মজা করেছি, দুর্দান্ত একটা সময় কেটেছে আমাদের।’
দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা শিবির। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে গড়ে ওঠা পারিবারিক আবহ এখনও ধরে রেখেছে দলটি। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে তৈরি এই স্কোয়াডকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়তো ফলাফলের দিক থেকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য এটি হতে পারে নকআউট পর্বের প্রস্তুতির শেষ ধাপ। অন্যদিকে জর্ডানের জন্য এটি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর একটি বড় সুযোগ।
তবে সব আলো শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে একজনের ওপরই-লিওনেল মেসি। তিনি শুরু থেকেই খেলুন কিংবা বেঞ্চ থেকে নামুন, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই এখন দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আর জর্ডানের বিপক্ষে কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নামলেও মেসির সামনে থাকবে আরও একটি সুযোগ-নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানো, নতুন রেকর্ড গড়া এবং নকআউটের আগে আবারও ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দেওয়া, কেন তিনি এখনও এই খেলার সবচেয়ে বড় নাম।