জাপান ম্যাচকে ‘ফাইনাল’ বললেন আনচেলত্তি, প্রস্তুত ব্রাজিল

জাপান ম্যাচকে ‘ফাইনাল’ বললেন আনচেলত্তি, প্রস্তুত ব্রাজিল
ছবির ক্যাপশান, গতকালের অনুশীলনে ব্রাজিল ফুটবল দল | ছবি: রয়টার্স

নকআউট পর্বে যেকোনো ম্যাচের সমীকরণ একটাই-জিতলে সামনে এগোনো, হারলেই বিদায়। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে আজ জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের আগে দলের মানসিক প্রস্তুতি, নেইমারের ফিটনেস, আক্রমণভাগের নতুন ছন্দ এবং জাপানের বিপজ্জনক সামর্থ্য-সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রাজিল কেবল ৯০ মিনিটের জন্য প্রস্তুত নয়। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআট-সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘পুরো দলই মনোযোগী, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউট-আমরা সবদিক থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই।’

 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে শুরু করে সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে আক্রমণভাগে ছন্দের অভাব এবং রক্ষণে কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় দলটি। এরপর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেয় তারা।

 

স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং মাতেউস কুনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস ইতোমধ্যেই গ্রুপ পর্বে চার গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

 

ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর অবশ্য নেইমারের প্রত্যাবর্তন। প্রায় ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ১৫ মিনিট খেলেন। যদিও শুরু একাদশে থাকার সম্ভাবনা এখনো কম, তবে জাপানের বিপক্ষে তাঁর খেলার সময় আরও বাড়তে পারে।

 

আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার খুব ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছে। গত এক সপ্তাহে সে অনেক উন্নতি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, পুরো সময় সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেনি। তবে এখন সে ১৫ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

 

ব্রাজিল অধিনায়ক মার্কিনিওসও দলের উন্নতির দিকটি তুলে ধরেছেন। মার্কিনিওসের ভাষায়, ‘আমরা আমাদের সেরা ফর্মে ছিলাম না, তবে আমাদের খেলায় প্রতিনিয়ত উন্নতি হচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাদের যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা এখন নকআউট পর্বে পা রাখছি।’

 

মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারাইস, লুকাস পাকেতা এবং মাতেউস কুনিয়ার সমন্বয়ও ব্রাজিলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। স্কটল্যান্ড ম্যাচে আনচেলত্তির ডায়মন্ড ফরমেশন বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কুনিয়াকে নির্দিষ্ট পজিশনে না রেখে পুরো আক্রমণভাগে ঘোরাফেরা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।

 

আনচেলত্তি বলেন, ‘শেষ ম্যাচে কুনিয়াকে কোনো নির্দিষ্ট পজিশনে না রাখাটা আমাদের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। প্রতিপক্ষ যাতে সহজে আমাদের চাল বুঝতে না পারে, সে জন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত পজিশন অদলবদল করা খুবই জরুরি।’

 

অন্যদিকে জাপানও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তারা গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়াকে হারিয়েছে এবং নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করেছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কারণে এশিয়ার দলটি এবারের বিশ্বকাপে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

বিশেষ করে জাপানের মিডফিল্ড ও ট্রানজিশন ফুটবল নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কোচ। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস, আলিসন, মার্কিনিওস, ব্রুনো গিমারাইস, পাকেতা ও নেইমারের মতো তারকারা ইউরোপের বড় বড় নকআউট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামবেন।

 

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এমন কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা এ ধরনের বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে। এদিক থেকে আমি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।’

 

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশেও খুব বেশি পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। আলিসন গোলপোস্টের নিচে থাকবেন। রক্ষণে মার্কিনিওস, মিলিতাও ও আরানা থাকতে পারেন। মাঝমাঠে ব্রুনো, পাকেতা ও কুনিয়ার সঙ্গে আক্রমণে দেখা যেতে পারে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়াকে। নেইমারকে দ্বিতীয়ার্ধে নামানোর পরিকল্পনাই বেশি সম্ভাব্য।

 

এই ম্যাচ জিততে পারলে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে নরওয়ে অথবা আইভরিকোস্টের। ফলে সেলেসাওদের সামনে এখন শুধু জাপান বাধা নয়, বরং পুরো নকআউট পথের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

 

ব্রাজিলের সমর্থকেরাও আশা করছেন, গ্রুপ পর্বে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা দলটি নকআউটে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। কারণ ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল যখন নিজেদের সেরা ফুটবলের কাছাকাছি পৌঁছাতে শুরু করে, তখন বাকি দলগুলোর জন্য সেটি হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।


সম্পর্কিত নিউজ