{{ news.section.title }}
জাপানের বিপক্ষে যেমন হতে পারে ব্রাজিলের একাদশ
বিশ্বকাপে এখন আর ভুলের সুযোগ নেই। একটি হারই শেষ করে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন। এমন বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে আজ (সোমবার) জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
গ্রুপ পর্বে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়া ব্রাজিলের সামনে এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। কারণ জাপান শুধু এশিয়ার অন্যতম সেরা দলই নয়, এবারের বিশ্বকাপেও তারা নিজেদের শৃঙ্খলিত ও সংগঠিত ফুটবল দিয়ে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলকে সমস্যায় ফেলেছে। ফলে অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও ম্যাচটিকে মোটেও সহজভাবে দেখছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ জানিয়েছেন, তাঁর দল নকআউটের প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন আসবে, আর এটা আমাদের শেষ অনুশীলনের সময় চূড়ান্ত হয়। দিন শেষে আমাদের ম্যাচে পূর্ণ মনোযোগ থাকা চাই। আমরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়ব। যারা খুব শৃঙ্খলিত এবং আমরা স্পষ্টভাবে জানি যে মাঠে কী করতে হবে।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করে সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে আক্রমণে ধার এবং রক্ষণে স্থিরতার অভাব ছিল স্পষ্ট। তবে পরের দুই ম্যাচে দলটি নিজেদের বদলে ফেলেছে।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠে ব্রাজিল। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস ও লুকাস পাকেতার সমন্বয় ব্রাজিল সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।
আনচেলত্তির ডায়মন্ড ফরমেশনও সেই ম্যাচে দারুণভাবে কাজ করেছে। মাঝমাঠে ব্রুনো ও পাকেতার সৃজনশীলতা, কুনিয়ার মুক্ত বিচরণ এবং ভিনিসিয়ুসের গতি প্রতিপক্ষকে বারবার সমস্যায় ফেলেছে। তবে ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় খবর অবশ্য নেইমারকে ঘিরেই। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা এই তারকা স্কটল্যান্ড ম্যাচে ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। প্রায় ৯৮১ দিন পর সেলেসাওদের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমারের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং জাপানের বিপক্ষে তাঁকে আরও বেশি সময় দেখা যেতে পারে। ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে তার উন্নতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগের ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। তবে তিনি এখন আরও বেশি সময় মাঠে থাকার মতো যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছেন।’
যদিও শুরু একাদশে নেইমারকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে দ্বিতীয়ার্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে ম্যাচ যদি সমতায় আটকে থাকে বা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের বড় অস্ত্র হতে পারে। এদিকে রাফিনিয়ার চোটের পর স্কটল্যান্ড ম্যাচে সুযোগ পেয়ে আলো ছড়িয়েছেন তরুণ রায়ান। বাঁ প্রান্তে তাঁর গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল ব্রাজিলকে নতুন বিকল্প দিয়েছে। ফলে আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, কুনিয়া ও রায়ানের ত্রয়ী আবারও দেখা যেতে পারে।
সম্ভাব্য একাদশে গোলবারের নিচে থাকবেন অ্যালিসন বেকার। রক্ষণে দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস ও ডগলাস সান্তোস। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস ও লুকাস পাকেতা এবং আক্রমণে রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দেখা যেতে পারে।
তবে প্রতিপক্ষ জাপানকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়াকে হারিয়েছে এবং নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করেছে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, সংগঠিত রক্ষণ এবং নির্ভুল পাসিংয়ের কারণে ব্লু সামুরাইরা এখন বিশ্বের অন্যতম কঠিন দল হিসেবে পরিচিত।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য স্পষ্টভাবে ব্রাজিলের পক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ১১ ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান জিতেছে মাত্র একটি ম্যাচ। তবে সেই একমাত্র জয়টিই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের কিছুটা অস্বস্তিতে রাখছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ওই ম্যাচে জাপান আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ব্রাজিলের রক্ষণকে বারবার ভেঙে দিয়েছিল।
তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং ব্যক্তিগত তারকার বিচারে এগিয়ে থাকলেও জাপানের বিপক্ষে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না সেলেসাওরা।
অধিনায়ক মার্কিনিওসও মনে করেন, দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে। তাঁর ভাষায়, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা সেরা অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ আমাদের উন্নতি হচ্ছে। এখন আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস বলে, তারা যখন নকআউট পর্বে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়, তখন প্রতিপক্ষের জন্য তা হয়ে ওঠে বড় সতর্কবার্তা। জাপানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি শুধু শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াই নয়, বরং ব্রাজিল সত্যিই শিরোপার অন্যতম দাবিদার কি না, সেই প্রশ্নেরও একটি বড় উত্তর দিতে পারে।
আর সেই উত্তর খুঁজতেই আজ রাতে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।