{{ news.section.title }}
এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স
কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোল আর ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরেকটি স্মরণীয় রাত কাটালেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৪৫ ও ৭৪ মিনিটে দুটি গোল করে তিনি শুধু ফ্রান্সকে জয়ই এনে দেননি, গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে ফরাসিরা। ওসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও এমবাপ্পেকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ শুরু থেকেই সুইডেনের রক্ষণকে চাপে রাখে। অন্যদিকে আলেক্সান্ডার ইসাককে সামনে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করছিল সুইডেন। তবে ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁর দৃঢ়তায় খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সুইডিশরা।
প্রথমার্ধে এমবাপ্পের গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স
প্রথমার্ধজুড়ে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। বারকোলা ও অলিজে কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও সুইডেনের গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পায় ফ্রান্স।
৪৫ মিনিটে ওসমান দেম্বেলের বাড়ানো বল থেকে বক্সের ভেতরে দুর্দান্ত গতিতে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে নিজের নবম গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক। সেই সময়েই তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করেন।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ফ্রান্সের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বারকোলার জাদু
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে দারুণ এক দলগত আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মাইকেল অলিজের অসাধারণ থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পিএসজির এই তারকা।পুরো ম্যাচজুড়ে মাইকেল অলিজে ছিলেন অসাধারণ। তার সৃষ্টিশীল ফুটবল সুইডেনের ডিফেন্সকে বারবার বিপদে ফেলেছে।
গোল হজমের পর সুইডেন কিছু পরিবর্তন এনে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ফ্রান্সের মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগ খুব একটা সুযোগ দেয়নি।
৭৪ মিনিটে শেষ আঘাত এমবাপ্পের
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আবারও হাজির হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাইকেল অলিজের আরেকটি নিখুঁত পাস ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্স ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। পুরো ম্যাচে কোনো পেনাল্টি বা ফ্রি-কিক থেকে গোল হয়নি। তিনটি গোলই ওপেন প্লে থেকে এসেছে।
এমবাপ্পের নতুন ইতিহাস
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি এই তালিকায় সবাইকে পেছনে ফেলেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। ফলে সর্বকালের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ড এখনও লিওনেল মেসির দখলে। এমবাপ্পে এখন সেই রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে অবস্থান করছেন। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৬। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। এটি চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের তৃতীয় জোড়া গোলের ম্যাচও। চার ম্যাচে ছয় গোল করে তিনি আবারও নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করলেন।
অলিজে ও দেশমের বিশেষ রাত
এই ম্যাচে গোল না পেলেও মাইকেল অলিজে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অলিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। তার সৃজনশীল ফুটবল ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। এদিকে কোচ দিদিয়ের দেশমও বিশ্বকাপে নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তার অধীনে ফ্রান্স আবারও নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল।
সুইডেনের ব্যর্থতা
গ্রুপ পর্বে লড়াই করে নকআউটে ওঠা সুইডেন ফ্রান্সের বিপক্ষে খুব একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। আলেক্সান্ডার ইসাক, ডেজান কুলুসেভস্কি এবং মিডফিল্ডের অন্যান্য খেলোয়াড়রা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে ব্যর্থ হন। পুরো ম্যাচে সুইডেন কয়েকটি সুযোগ পেলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ তা নষ্ট করে দেয়। গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁও দুর্দান্ত ছিলেন।
সামনে প্যারাগুয়ে
এই জয়ের ফলে ফ্রান্স এখন শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে। জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, এমবাপ্পে, দেম্বেলে, অলিজে ও বারকোলার বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় ফ্রান্সকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় শিরোপা দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সুইডেনের বিপক্ষে এই ৩-০ জয়ের মাধ্যমে শুধু নকআউট নিশ্চিত করেনি ফ্রান্স, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের বাকি দলগুলোর কাছেও শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। এমবাপ্পে যেভাবে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন, তাতে এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ তার দিকেই।