{{ news.section.title }}
ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে, ফিরছে পুরোনো দুঃস্বপ্ন!
জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাঁচিয়ে দেয়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল শিবিরে একটি প্রশ্ন ঘুরছিল-পরের প্রতিপক্ষ কে?
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। আইভরি কোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ফলে আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এটিই হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।
ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব আছে আরেকটি কারণে। ফুটবল ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে কখনো জিততে পারেনি সেলেসাওরা। চারবার মুখোমুখি হয়ে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল নরওয়ে।
১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল নরওয়ে। বেবেতোর গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তোরে আন্দ্রে ফ্লো এবং কেতিল রেকদালের গোলে হারতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। সেই ম্যাচটি এখনও নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্রাজিল বনাম নরওয়ে
| দল | ম্যাচ | জয় | হার | ড্র |
| ব্রাজিল | ৪ | ০ | ২ | ২ |
| নরওয়ে | ৪ | ২ | ০ | ২ |
এর আগে ১৯৮৮ সালে দুই দল ১–১ গোলে ড্র করেছিল। ১৯৯৭ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে ৪–২ গোলে জিতেছিল নরওয়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে অসলোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিও ১–১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফলে পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়ে এমন একটি দল যাদের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল।
তবে বর্তমান বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। গ্রুপ পর্বে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলেও পরে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে ব্রাজিল। এরপর নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরে পেয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ব্রুনো গিমারাইস ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্লেমেকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অন্যদিকে নরওয়েও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে তারা ফ্রান্সের পর রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠে। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেয়েছে দলটি।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে আন্তোনিও নুসার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। পরে আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আর্লিং হালান্ড গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। টুর্নামেন্টে এটি ছিল ম্যানচেস্টার সিটি তারকার পঞ্চম গোল।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য শুধু হালান্ড নন। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা, আলেকজান্ডার সরলোথ এবং প্যাট্রিক বার্গের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগও বেশ কার্যকর। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ী গোলটিও আসে ওডেগার্ড–বার্গ–হালান্ড সমন্বয় থেকে।
বিশ্বকাপে দীর্ঘ ২৮ বছর পর নকআউট ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে তাদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণেও প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল। সেই স্মৃতিই এখন নতুন করে ফিরছে নরওয়েজিয়ানদের মধ্যে। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই ম্যাচটিকে ‘১৯৯৮-এর পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছে।
ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা পাঁচ। শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষেও সুযোগ তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মার্তিনেল্লির গতি নরওয়ের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।
কার্লো আনচেলত্তির দল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে। জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। তবে নরওয়ের বিপক্ষে তাদের সামনে থাকবে এক অদ্ভুত মানসিক চ্যালেঞ্জ-যে দলের বিপক্ষে ইতিহাসে কখনো জেতেনি ব্রাজিল।
এদিকে নরওয়েজিয়ান শিবিরে আত্মবিশ্বাসের মাত্রাও কম নয়। কারণ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা কখনো ব্রাজিলের কাছে হারেনি। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের এই প্রজন্ম সেই রেকর্ড ধরে রাখতে চায়।
সব মিলিয়ে নিউ জার্সিতে হতে যাওয়া এই লড়াই শুধু শেষ ষোলোর একটি ম্যাচ নয়। এটি একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপার অভিযানের পরীক্ষা, অন্যদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা নরওয়ের স্বপ্নের যাত্রার সবচেয়ে বড় অধ্যায়।