এই স্পেন না জিতলে অবিচার হতো

এই স্পেন না জিতলে অবিচার হতো
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

চার বছর আগে ইউরোপের সেরা হয়েছিল স্পেন। এবার সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রেখে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরও নিজেদের করে নিল লা রোখা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্কোরলাইন ব্যবধান ছিল সামান্য, তবে খেলার নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন। বলের দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং একের পর এক আক্রমণে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে কার্যকর হতে দেয়নি স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ও সমন্বিত প্রেসিং।

 

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

 

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে সঠিক সময়ে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিং করেন ফেরান তোরেস। সেই গোলেই ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের হাতে ওঠে।

 

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নকআউট পর্বে একে একে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতে নেয় তারা।

 

বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাঝমাঠে রদ্রির নেতৃত্ব, রক্ষণে দৃঢ়তা এবং আক্রমণে ধৈর্যশীল পরিকল্পনা স্পেনকে পুরো আসরে আলাদা করেছে।

 

ফাইনালে রদ্রি আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কারও জেতেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

 

অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা এবার স্পেনের সংগঠিত ফুটবলের সামনে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় লিওনেল স্কালোনির দল।

 

এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল স্পেন। একই সঙ্গে ইউরো ও বিশ্বকাপ-দুই বড় আন্তর্জাতিক আসরেই নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সামষ্টিক নৈপুণ্য, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ভর করে স্পেন আবারও উঠে গেল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে।


সম্পর্কিত নিউজ