{{ news.section.title }}
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইয়ামালের স্পেন
পারলেন না জাদুকর, পারলেন না লিওনেল মেসি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকার স্বপ্নটা থেমে গেল স্পেনের কাছে। ৩৯ বছর বয়সে এসে হৃদয়ভাঙা এক পরাজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আধিপত্য দেখানো স্পেন প্রমাণ করল, তারাই ছিল এবারের শিরোপার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার।
অপেক্ষা ছিল এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের। কিক-অফের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হেলিকপ্টার বহরের উপস্থিতি, বিরতিতে শাকিরা ও জাস্টিন বিবারের চোখধাঁধানো পরিবেশনা-সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালের জৌলুসে কোনো কমতি ছিল না। তবে মাঠের ফুটবল ছিল ঠিক তার উল্টো। শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন, আর আর্জেন্টিনা ছিল অনেকটাই নিজেদের ছায়া।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় আলবিসেলেস্তেরা। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সিকে ভয়ঙ্কর ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে শেষ দিকে দশজনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ সেকেন্ডে লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেই সেভেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
তবে অতিরিক্ত সময়ে দশজনের আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় লা রোহা। নিকোলাস ওটামেন্ডিকে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে স্পেনের একটি গোল বাতিল হলেও তারা দমে যায়নি।
অবশেষে ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে আর ভুল করেনি স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের দুর্দান্ত এক হেড থেকে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।
২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোল যেমন স্পেনকে শিরোপা এনে দিয়েছিল, এবার ঠিক একইভাবে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন বার্সেলোনার তারকা ফেরান তোরেস।
পুরো ম্যাচে স্পেন কতটা আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। স্পেন যেখানে মোট ২০টি শট নিয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনার শট ছিল মাত্র দুটি। অবাক করার বিষয়, তাদের প্রথম শটই আসে ম্যাচের ১১৬তম মিনিটে। শেষ মুহূর্তে হুলিয়ান আলভারেজ ও জিওভানি সিমিওনের একটি সুযোগ লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে হয়তো ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াতে পারত।
বল দখল, আক্রমণ কিংবা সুযোগ সৃষ্টি-সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্পেন। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে তারা বেছে নিয়েছিল ফাউলনির্ভর ও রক্ষণাত্মক ফুটবল।
প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত দুটি গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৪০তম মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। পরে ইনজুরিতে পড়ে তাকেও মাঠ ছাড়তে হয়।
এদিন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বেশ কয়েকটি নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে ম্যাচজুড়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পাওয়া আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিও ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ।
তবে ম্যাচ শেষে সুন্দর ফুটবলের এই রাতেও লেগেছে বিতর্কের ছাপ। হারের হতাশা থেকে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হন লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা। মোলিনা কনুই দিয়ে আঘাত করেন রদ্রিকে। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এক বদলি খেলোয়াড়ের জার্সি ছিঁড়ে তার মুখেও আঘাত করেন। ফলে শেষ বাঁশির পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে সব তিক্ততা ছাপিয়ে শেষ হাসিটা হেসেছে স্পেনই। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইউরো ২০২৪-এর পর এবার বিশ্বকাপও নিজেদের করে নিল লা রোহা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠল স্পেনের মাথায়।