{{ news.section.title }}
এটাই কি মেসির শেষ, কী বলছেন ইব্রা-অঁরিরা?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি জেতা হলো না লিওনেল মেসির। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ফুটবল বিশ্বের প্রশংসায় ভাসছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, থিয়েরি অঁরি, অ্যালেক্সি লালাস, পিটার ক্রাউচ, পিটার স্মাইকেল ও মরিস এদু-সবার কণ্ঠেই ছিল মেসির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে রানার্সআপ পদক গ্রহণের সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার চোখের জল ধরা পড়ে টেলিভিশনের ক্যামেরায়। সেই দৃশ্য নিয়েই আলোচনায় বসেন ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষকেরা।
জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমরা মেসিকে মন ভরে উপভোগ করেছি। আমি জানি, বিশ্বকাপ জিততে না পেরে সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু সে অবিশ্বাস্য একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। সে এই দলটিকে টেনে নিয়ে এসেছে এবং অসাধারণ সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’
মেসির এই বিশ্বকাপকে ব্যক্তিগতভাবে অন্যতম সেরা আসর হিসেবে উল্লেখ করেছে ফক্স স্পোর্টস। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন। প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার পাশাপাশি কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে তিনটি গোল তৈরি করে দেন সতীর্থদের জন্য।
ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, ‘কখনও মনে হয়েছে সে আমাদের মতোই একজন মানুষ, আবার কখনও মনে হয়েছে সে এই পৃথিবীরই কেউ নয়।’
চলতি বিশ্বকাপে আট গোল করে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২১-এ উন্নীত করেন। গ্রুপ পর্বে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ২২ গোল নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে যান ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফাইনালে গোল করতে না পারায় সেই রেকর্ড আর পুনরুদ্ধার করা হয়নি।
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা আক্রমণে কার্যত নিষ্প্রভ ছিল। দলটি পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নেয়, যার একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। মেসিও একটি শট নেন এবং পাঁচটি ক্রসের মধ্যে মাত্র একটি সফলভাবে সতীর্থের কাছে পৌঁছায়।
তবে থিয়েরি অঁরির মতে, এটি মেসির ব্যর্থতার চেয়ে স্পেনের কৌশলগত সাফল্য। তিনি বলেন, ‘মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা যায় না। আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে স্পেনের মতো একটি দলই দরকার।’
ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও মেসির উত্তরাধিকার নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তার ভাষায়, ‘সে এখন বিশ্বকাপে যত ফাইনাল জিতেছে, তার চেয়ে বেশি ফাইনাল হেরেছে। কিন্তু তবুও সে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। ফুটবল শুধু আপনি কী জিতলেন, সেটি নয়; খেলাটিকে আপনি কী দিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আর মেসির অবদান তুলনাহীন।’
অ্যালেক্সি লালাস বলেন, ‘সে একজন চ্যাম্পিয়ন। চ্যাম্পিয়নরা সবকিছু জিততে চায়। সে সবকিছুই জিতেছে, তাই আজকের হার তাকে কষ্ট দেবে। কিন্তু আজকের ফলের চেয়ে বড় বিষয় হলো, সে কতটা আইকনিক এবং কতটা অসাধারণ একজন ফুটবলার।’
পিটার ক্রাউচের মতে, স্পেনের বর্তমান দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ছোটবেলায় মেসিকে দেখে বড় হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মানুষটি একজন জিনিয়াস। যদি এটাই তার শেষ বিদায় হয়, তাহলে আমরা ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে বিদায় জানাচ্ছি।’
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেসির কান্নার ছবির প্রসঙ্গ টেনে অঁরি বলেন, ‘দেখুন, এই হারটা তার কাছে কতটা কষ্টের। যদি কারও মনে সন্দেহ থাকে যে এই বয়সেও তার ভেতরে জেতার ক্ষুধা আছে কি না, তাহলে তার মুখের দিকে তাকান। সে সবকিছু জিতেছে, তবু দেশের জন্য তার আবেগ এতটুকুও কমেনি।’
এখন ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটিই কি ছিল লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ? এ প্রশ্নের উত্তর জানা না গেলেও ইব্রাহিমোভিচের আশা, ফুটবলপ্রেমীরা আরও কিছুদিন অন্তত মেসির খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, সে যত দিন সম্ভব খেলবে, যাতে আমরা আরও বেশি সময় তাকে উপভোগ করতে পারি। সে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলবে কি না জানি না। তবে সে যত দিন খেলবে, সেটাই আমাদের জন্য আনন্দের। কারণ যেদিন সে থেমে যাবে, সেদিন পুরো ফুটবল বিশ্বেরই মন খারাপ হবে।’
তথ্যসূত্র: ফক্স স্পোর্টস