{{ news.section.title }}
রদ্রির হাতে গোল্ডেন বল, এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট-আর কে পেল কোন পুরস্কার?
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেমন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত লড়াই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই দ্বৈরথ দেখা গেল। তবে এবারও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি জিতে নিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মানজনক গোল্ডেন বল।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য দেখায় লা রোখা। রদ্রি গোল্ডেন বল, উনাই সিমন গোল্ডেন গ্লাভ এবং ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন। একমাত্র গোল্ডেন বুটই যায় স্পেনের বাইরে, সেটি জেতেন এমবাপ্পে।
পুরো টুর্নামেন্টে ১০ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতেন এমবাপ্পে। ২০২২ সালের পর আবারও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড।
টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে শেষ করেন লিওনেল মেসি। গোল্ডেন বুট না পেলেও তিনি সিলভার বুট অর্জন করেন। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানে জয়ী ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। সেই দুই গোলই কার্যত গোল্ডেন বুট তার হাতে তুলে দেয়। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে গোল করতে না পারায় এমবাপ্পেকে আর টপকাতে পারেননি মেসি।
গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মূল কারিগর ছিলেন। বল দখল, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ-আক্রমণের ভারসাম্য রক্ষায় তার অবদান ছিল অনন্য। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই মিডফিল্ডার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল-দুই ম্যাচেই স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তিনি পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে এবং মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েন। টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খেয়ে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম ক্লিন-শিট ধারার মালিক হন।
অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলে স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ হিসেবে ২০২৬ আসরে নতুন একটি ঐতিহ্যেরও সূচনা করে ফিফা। বিশ্বকাপ ট্রফির পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে প্রথমবারের মতো প্রদান করা হয় চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেন পায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার।