{{ news.section.title }}
চবি সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলা, আটক ২
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় আবারও স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থী ও এক সাংবাদিক। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেলের সামনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবিরসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, রাতে ইসলামিয়া হোটেলে খাবার খেয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য বাসে উঠছিলেন। এসময় তাদের মধ্যে স্বাভাবিক কথাবার্তা ও কিছুটা চিৎকার-চেঁচামেচি হলে এক স্থানীয় ব্যক্তি হঠাৎ এর কারণ জানতে চান এবং অকারণে গালিগালাজ শুরু করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সময় টেলিভিশনের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবির ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে মোবাইল বের করেন। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও স্থানীয়রা তা উপেক্ষা করে তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে অতর্কিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে আবিরসহ তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় জাহিন সরকার আবির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া আশিকুর রহমান ও আলিমূল শামীম আহত হন। আশিকুর রহমানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, “আমরা বাসে উঠার সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি চিৎকারের কারণ জানতে চায়। পরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা শুরু হয়। জাহিন আবির ভিডিও করতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, “জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার এক্স-রে প্রয়োজন হওয়ায় তাকে চমেকে পাঠানো হয়েছে। আশিকুর রহমানের ঘাড় ও হাতে আঘাত রয়েছে, তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
কর্মসূচিতে চাকসুর নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
পরে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত একজন এবং জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করে। আটক দুইজনই গত বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের মামলার আসামি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।