আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ‘রেইনবো নেশন’ থেকে এসেছে: চবিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু

আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ‘রেইনবো নেশন’ থেকে এসেছে: চবিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু
ছবির ক্যাপশান, চবিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু

“আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ‘রেইনবো নেশন’ বাংলাদেশের ভেতরে সবাই আগে বাংলাদেশি, এরপর আসে ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতি” এমন মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ দেশের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় সকাল ১০টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্দিরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ। এর আগে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) উৎসবমুখর পরিবেশে মন্দিরটির দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়েছিল।

 

মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। মন্দির উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান। এতে সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি সমাজ কখনো একরঙা হয় না; বৈচিত্র্যই তার শক্তি। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা ‘Unity in Diversity’-এর বাস্তব প্রতিফলন। সরকার একা সব কিছু করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এমন উদ্যোগ সফল হয়।

 

তিনি আরও বলেন, সহনশীলতা, সংবেদনশীলতা, মানবিকতা ও স্থিতিশীলতা এই চারটি গুণ ছাড়া কোনো দেশ এগোতে পারে না। একইসঙ্গে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি, কারণ সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিক সমান অধিকারভোগী।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। এজন্য মানসম্মত শিক্ষক, সময়োপযোগী কারিকুলাম এবং সুস্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

 

বিশেষ অতিথি মীর হেলাল উদ্দিন তার বক্তব্যে হাটহাজারীকে সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করে। তিনি বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, মন্দিরটি অত্যন্ত নান্দনিকভাবে নির্মিত হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সারা দেশে পরিচিতি পাবে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এই মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। মন্দির পরিচালনা, পুরোহিত নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মনোরম স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত এই মন্দিরের অর্থায়ন করে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন।

 

মন্দিরটির নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দেয় ‘এস্ট্রো’ এবং অভ্যন্তরীণ সজ্জায় কাজ করে ‘দি-অ্যাড কমিউনিকেশন’। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটি।

 

উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় বক্তারা সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং সম্মিলিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সম্পর্কিত নিউজ