বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমল

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় তেলের দামে উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৯.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের সেশনে, অর্থাৎ শুক্রবার, সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৪৩.২০ ডলারে অবস্থান করে।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ভবিষ্যতে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে-এমন আশঙ্কাই মূলত সোনার বাজারে চাপ তৈরি করছে। ওয়ান্ডার নামের একটি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজার এখন ফেডের নীতিগত অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনও সোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

দশ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন আগের সেশনে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কিছুটা কম আকর্ষণীয় করে তুলছে।

 

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলার খবরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও আরও জোরদার হয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার এই ধাতুর বাজারে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা-এই দুই বিপরীতমুখী শক্তি বাজারকে প্রভাবিত করছে।

 

বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে। বর্তমানে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তা বেথ হাম্যাক বলেছেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য অনুযায়ী শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ থাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

 

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার প্রতি আউন্স ৬৭.৮৬ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.৪২ ডলারে নেমে এসেছে, তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১,২২৫.৬৭ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আগামী দিনগুলোতেও পণ্যমূল্যের বাজারে ওঠানামা অব্যাহত রাখতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ