লেবাননে ইসরাইলি হামলায় সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ১২

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ১২
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং আরও একজন সেনাসদস্য রয়েছেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

লেবাননের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়াহ অঞ্চলের খারদালি-নাবাতিয়াহ সড়কে একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। এতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খৌরি এবং সেনাসদস্য হুসেইন ঘাজাল নিহত হন। হামলায় সামরিক যানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

 

একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের সাকসাকিয়াহ এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় আরও ছয়জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও বিমান হামলার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১২ জনে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

 

এই হামলার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েল ধারাবাহিক ও পরিকল্পিতভাবে লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর ভাষায়, বারবার এমন হামলার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া।

 

লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী Nawaf Salam হামলাকে "জঘন্য অপরাধ" হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের হামলা শুধু সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে আক্রমণ।

 

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলাটি একটি "সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে" পরিচালিত হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সম্ভাব্য তৎপরতার তথ্য পাওয়ার পর সামরিক যানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে গাড়িটিতে লেবাননের সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছিলেন।

 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগের পরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে ইসরায়েল একাধিক গ্রামে হামলা চালিয়েছে এবং কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও সীমান্তবর্তী কয়েকটি ইসরায়েলি অবস্থানে রকেট ও গোলাবর্ষণ করেছে।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, সর্বশেষ হামলায় লেবাননের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নিহত হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ চলমান সংঘাতে এত উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু বিরল ঘটনা। এতে লেবাননের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

 

চলতি বছরের মার্চে সীমান্তে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সীমান্ত সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব শুধু লেবানন ও ইসরায়েল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ