যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক: সময় নিয়ে নতুন ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক: সময় নিয়ে নতুন ইঙ্গিত
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক: সময় নিয়ে নতুন ইঙ্গিত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান খুব দ্রুতই আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল নতুন দফার মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই বৈঠক হলে তা দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করলে যে তেহরান তার প্রধান শর্তগুলো মেনে আলোচনায় এগোতে প্রস্তুত, তাহলে তিনি দ্রুত সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে হওয়া বৈঠক শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেলেও উভয় পক্ষই যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। বরং পাকিস্তান এখনও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এবং বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন করে মুখোমুখি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বৈঠকের কাঠামো, প্রতিনিধিদলের আকার এবং আলোচনার স্থান নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা-দুই নামই সামনে এসেছে। তবে সময় ও স্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

ইসলামাবাদের প্রথম দফার বৈঠক ছিল প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে আলোচনায় ছিলেন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, আর পাকিস্তান ছিল আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী। রয়টার্স জানায়, বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি-এই কয়েকটি ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত মূল মতভেদ দূর হয়নি।

প্রথম দফার বৈঠক নিয়ে পরে ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলব না যে সবকিছু ভুল হয়েছে। আমি এটাও মনে করি অনেক কিছু ঠিকভাবেই হয়েছে। আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। ‘ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের অবস্থানের দিকে এগিয়েছে, তাই আমরা বলতে পারি কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত ছিল। তবে তারা যথেষ্ট দূর এগোয়নি।’ রয়টার্সের ভাষ্যও বলছে, ভ্যান্স আলোচনায় কিছু অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব তেহরানের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওপক্ষ থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। ‘ তবে একই সময় তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা ধরে রাখতে দেওয়া হবে না। আলোচনার অগ্রগতি কতদূর, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে অবস্থানে কতটা নমনীয়তা দেখায় তার ওপর।

সব মিলিয়ে, প্রথম দফার বৈঠকে চুক্তি না হলেও তা পুরোপুরি ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রয়াস ছিল না। উভয় পক্ষ এখনও সংলাপের পথ খোলা রেখেছে, পাকিস্তানও মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছে। ফলে বৃহস্পতিবার সত্যিই বৈঠক হলে, তা হবে চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ। তবে মূল মতপার্থক্য-বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা-অমীমাংসিত থাকায় সামনে পথ এখনও কঠিন।


সম্পর্কিত নিউজ