{{ news.section.title }}
ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
মার্কিন ডলারের দরপতন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আশা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পট গোল্ড ৩.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭০৮.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮১ টাকা।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৭২১ ডলার প্রতি আউন্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬২ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দাম সরাসরি বাংলাদেশের খুচরা স্বর্ণের দামের সমান নয়; কারণ স্থানীয় বাজারে বাজুসের নির্ধারিত দর, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, শুল্ক, ভ্যাট, মজুরি ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো মার্কিন ডলারের দুর্বলতা। ডলারের দর কমলে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে ডলার দুর্বল হয়, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায় এবং তেলের দাম কমে যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে-এমন খবর প্রকাশের পর বাজারে এই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা সাধারণত তেলের বাজারে স্বস্তি আনে। কিন্তু এবার স্বর্ণের বাজারেও তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদের হার কমার প্রত্যাশা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না; তাই সুদহার কমলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালজুড়ে স্বর্ণের বাজার শক্তিশালী থাকতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদা স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিচ্ছে। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রূপার দাম ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে। ইনভেস্টিং ডটকমের লাইভ বাজারতথ্য অনুযায়ী, রূপার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৭৭.৩২৫ ডলার ছিল, যা ১২২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৪৩৪ টাকা প্রতি আউন্স। একই সময়ে প্লাটিনাম ৪.২ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের বাজার এখন একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবে চূড়ান্ত হয় কি না। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। তৃতীয়ত, মার্কিন ডলারের গতিপথ ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি। চতুর্থত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার ধারা অব্যাহত থাকে কি না।
বাংলাদেশের বাজারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বর্ণের এই উল্লম্ফন গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে দেশের বাজারেও বাজুস নতুন করে দাম সমন্বয় করতে পারে। তবে স্থানীয় বাজারদর সরাসরি আন্তর্জাতিক স্পট দামের সঙ্গে একদিনে একভাবে ওঠানামা করে না। ডলারের দর, স্থানীয় চাহিদা, তেজাবি স্বর্ণের দাম এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশে দাম নির্ধারণ করা হয়।