{{ news.section.title }}
ডলারে তেল বিক্রির সুযোগ পেতে পারে ইরান: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরান মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করতে পারে এবং এমনটি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ডলারের আধিপত্য আরও শক্তিশালী হবে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের অবস্থান ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের মতো একটি বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ যদি পুনরায় ডলারে তেল লেনদেন শুরু করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ডলারের কেন্দ্রীয় অবস্থান বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের অংশ। ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতা সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।’
সুইজারল্যান্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জ্বালানি রপ্তানি এবং আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত সোমবার ওয়াশিংটন ৬০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় ঘোষণা করে। এর আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান ডলারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতিগুলোর একটি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি পেলে ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চীন, রাশিয়া এবং কিছু আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে বিকল্প মুদ্রা ও বিনিময় পদ্ধতিতে লেনদেন করছিল তেহরান। এখন ডলারভিত্তিক লেনদেন আংশিকভাবে পুনরায় চালু হলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ৭ দল
এদিকে বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুক্ত হওয়া অর্থের একটি অংশ মানবিক খাতে, বিশেষ করে খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহৃত হবে।
তবে তেহরান এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, মুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে। খাদ্য, ওষুধ বা কৃষিপণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোনো দেশের শর্ত গ্রহণ করা হবে না।
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দাম ও মান বিবেচনা করে পণ্য কিনব। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কাছ থেকে কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।’
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে আগামী কয়েক মাসে ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক কয়েক লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে ইরানের কাছে। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত ছিল।
জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানি তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, তেল বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার বাড়লে মার্কিন মুদ্রার বৈশ্বিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, রাশিয়া ও কিছু উদীয়মান অর্থনীতি ডলারের বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। ইরানের সম্ভাব্য ডলারভিত্তিক তেল বিক্রি সেই প্রবণতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে সবকিছুই এখনও চলমান আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে এখনো দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান আলোচনা সফল হয় এবং নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে ইরান শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাতেও আবার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স