{{ news.section.title }}
ভেনেজুয়েলায় ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, সুনামি সতর্কতা জারি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন রাজধানী কারাকাস ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্রা প্রথমে ৭ দশমিক ১ হিসেবে জানানো হলেও পরবর্তীতে কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ৭ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী কম্পনের তথ্য প্রকাশ করেছে। দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মরোন ও মন্টালবান এলাকার কাছাকাছি এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার।
রাজধানী কারাকাসে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, কয়েকটি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
কারাকাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শক্তিশালী কম্পনের সময় ভবনগুলো দুলতে শুরু করে এবং অনেক স্থানে দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তার অ্যাপার্টমেন্টের দেয়ালে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রবেশপথের কাচ ভেঙে পড়ে। অনেক মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় রাত কাটাতে শুরু করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে রাজধানীর কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার উপকূলবর্তী অঞ্চল ছাড়াও আরুবা, বোনেয়ার, কুরাসাও, পুয়ের্তো রিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে। যদিও পরবর্তীতে কিছু এলাকায় সতর্কতার মাত্রা কমানো হয়েছে, তবুও উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেখানেও কিছু ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে যায়।
ইউএসজিএসের ‘পেজার’ মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এই ভূমিকম্পের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এমন মাত্রার ভূমিকম্পে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগভীর গভীরতায় সংঘটিত ভূমিকম্প সাধারণত বেশি ধ্বংসাত্মক হয়। ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এবং অতীতেও দেশটিতে একাধিক বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০১৮ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালগুলোকে জরুরি প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে এবং আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক মানুষ এখনও খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স