চীন বলছে, তাইওয়ানকে WHO-র বার্ষিক সভায় অংশ নিতে দেবে না

চীন বলছে, তাইওয়ানকে WHO-র বার্ষিক সভায় অংশ নিতে দেবে না
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সভায় তাইওয়ানের অংশগ্রহণ নিয়ে আবারও চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সামনে এসেছে। বেইজিং জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে তাইওয়ানকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। তবে তাইপে বলছে, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেলেও তারা জেনেভায় প্রতিনিধিদল পাঠাবে এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সোমবার জানায়, তাইওয়ানকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক অ্যাসেম্বলিতে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। সম্মেলনটি আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা। বেইজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান চীনের অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। এই অবস্থানের কারণেই তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামে অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়ছে।

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি বা ডিপিপি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত অবস্থানে অনড় রয়েছে। বেইজিংয়ের মতে, এই অবস্থানই তাইওয়ানের বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ভিত্তি নষ্ট করেছে। চীন বলছে, এক চীন নীতি রক্ষা এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলির সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য তারা তাইওয়ানের অংশগ্রহণে সম্মতি দিচ্ছে না।

 

অন্যদিকে তাইওয়ানের সরকার চীনের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইপের দাবি, বেইজিংয়ের তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই। তাইওয়ান নিজেকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত একটি স্বশাসিত ভূখণ্ড হিসেবে দেখে, যদিও চীন দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।

 

তাইওয়ানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিহ চুং-লিয়াং বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য ইস্যুতে তাইওয়ানের অনুপস্থিত থাকা উচিত নয়। তার মতে, বরং তাইওয়ানকে আরও সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আলোচনায় অংশ নিতে হবে। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে সভায় যোগ দিতে না পারলেও তিনি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে জেনেভায় যাবেন। সেখানে তাইওয়ান নিজস্ব অনুষ্ঠান আয়োজন করবে এবং বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

 

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুংও জেনেভায় যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাইপে দেখাতে চাইছে, আনুষ্ঠানিক দরজা বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণের চেষ্টা থেমে নেই।

 

তাইওয়ান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছিল। সে সময় তাইওয়ানে মা ইং-জিউ প্রশাসন ক্ষমতায় ছিল এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে সাই ইং-ওয়েন ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি চীনের সেই অবস্থান মেনে নেননি যে, চীন ও তাইওয়ান একই ‘এক চীন’ কাঠামোর অংশ। এরপর ২০১৭ সাল থেকে বেইজিং তাইওয়ানের অংশগ্রহণ আটকে দেয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেও একই নীতি অনুসরণ করছেন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি, রোগ প্রতিরোধ, মহামারি প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তাইওয়ানের দাবি, করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কোনো ভূখণ্ডকে রাজনৈতিক কারণে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে দূরে রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

চীনের সিদ্ধান্তে তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক পরিসরে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা আবারও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে এটি দেখাচ্ছে, স্বাস্থ্য কূটনীতির ক্ষেত্রেও তাইওয়ান ইস্যু এখন শুধু চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্য নয়, বড় ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অংশ হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত নিউজ