{{ news.section.title }}
কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ট্রাম্প?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে সামরিক সংঘাত আবার শুরু না হয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ আরও কিছুটা সময় পায়। সিএনএনের সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত আপডেটেও বলা হয়েছে, সামরিক হামলা পুনরায় শুরুর বদলে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অনুরোধ ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য আরও সময় তৈরি হলো। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি বাড়লেও সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ থেকে সরে আসছে না যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরানের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট ও চূড়ান্ত জবাব পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনায় গতি আসছে না। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অবস্থান-এই বিষয়গুলোই আলোচনার বড় বাধা হয়ে আছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের নেতৃত্ব এখন “গভীরভাবে বিভক্ত” অবস্থায় রয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আলোচক দলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে তেহরানের আলোচকরা কোন অবস্থান নেবেন বা কী ধরনের প্রস্তাবে রাজি হবেন, তা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি করতে চায়। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিলেন, সমঝোতা না হলে সামরিক হামলা আবার শুরু হতে পারে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের অবস্থানকে আরও কঠোর হিসেবে তুলে ধরা হয়, যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে অনীহার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু না করে আপাতত কূটনৈতিক পথেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আলোচনার সবচেয়ে জটিল ইস্যুগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। ইরান শর্ত দিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে। তেহরানের বক্তব্য, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দর ও সংশ্লিষ্ট নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলবে। ফলে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়লেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট রয়ে গেছে।
পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইসলামাবাদ একদিকে ইরানকে আলোচনায় ফিরতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নেতৃত্বের চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল বা সীমিতভাবে চালু থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন হয়। তাই প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, শিপিং খরচ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাও যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো মানেই সংকটের সমাধান নয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর, জব্দ সম্পদ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-এসব ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সময় কিনেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ এখনো কঠিন।
সূত্র: সিএনএন