{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ স্থগিত করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় তেহরান।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার অধীনে থাকা কোনো প্রতিশ্রুতিই আপাতত বাস্তবায়ন করবে না তেহরান। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করায় ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমিয়ে আনা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আওতায় থাকা নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও কার্যত স্থগিত করেছে। এর জবাব হিসেবেই ইরানও চুক্তির অধীন থাকা সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাজেম ঘরিবাবাদি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই ইরানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই বিদ্যমান বাস্তবতায় সমঝোতার কোনো ধারা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
এর আগে একাধিকবার ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করছে। তারা সতর্ক করে বলেছিলেন, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে এই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।
এদিকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া দেশগুলোকেও একই ধরনের পাল্টা জবাব দেওয়া হতে পারে।
গত শুক্রবার রাতে মার্কিন হামলায় ইরানের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বাহরাইনে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এসব সামরিক দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।