ইরানের চুক্তি প্রত্যাহারে ‘একদমই পাত্তা দেই না’: ট্রাম্প

ইরানের চুক্তি প্রত্যাহারে ‘একদমই পাত্তা দেই না’: ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding-MoU) থেকে তেহরানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম NewsNation–কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, "I couldn't care less"-অর্থাৎ, "আমি একদমই পাত্তা দিই না।"

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন এই অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

কী ছিল এই এমওইউ?

গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (Islamabad Memorandum of Understanding) স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।

 

চুক্তির আওতায় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ধাপে আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তখনও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

 

কেন ভেঙে পড়ল সমঝোতা?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ইরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ তোলে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে সমঝোতার ভিত্তি নষ্ট করেছে।

 

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ জোরদার করে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

 

ট্রাম্পের অবস্থান আরও কঠোর

ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার বলেছেন, তাঁর দৃষ্টিতে এই অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত "শেষ"। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার কাছে চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করতে চাই না।" একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনাও করেন।

 

জুনে জি-৭ সম্মেলনের সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, এই এমওইউ কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। তাঁর ভাষায়, যদি ইরান শর্ত মেনে না চলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে দ্বিধা করবে না।

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেঙে পড়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ