{{ news.section.title }}
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত ৯, আহত অন্তত ৭০
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন। হামলার পর একাধিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করে।
শনিবার (১৮ জুলাই) স্থানীয় সময় রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলের কোটভস্ক শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে মস্কো অঞ্চলের ইলেক্ট্রোস্তালে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি গুদামেও হামলার ঘটনা ঘটে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।
একই দিনে বেলগোরোদ অঞ্চলও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এছাড়া মস্কো অঞ্চলের নোগিনস্ক শহরের একটি তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে পাশের একটি মাতৃসদন এবং আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এক রাতেই দেশটির ১৯টি অঞ্চলের আকাশে, পাশাপাশি ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগর এলাকায় মোট ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র। তার দাবি, মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের এসব স্থাপনা থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যন্ত্রাংশ এবং নেভিগেশন সরঞ্জাম সরবরাহ করা হতো।
জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী একটি তেল স্থাপনা এবং কৃষ্ণসাগর, আজভ সাগর ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ায় অবস্থিত কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও অগ্রগতির দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত শহর ক্রাসনি লিমানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সংগঠিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং শহরটি দখলের শেষ পর্যায়ের অভিযান চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, রুশ বাহিনী কনস্তানতিনিভকা ঘিরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে এবং স্লোভিয়ানস্ক-ক্রামাতোরস্ক অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বন্দর, প্রতিরক্ষা শিল্প, গোলাবারুদ গুদাম, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ১৯টি সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রোন ব্যবহার করে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত একাধিক কার্গো জাহাজে হামলার দাবিও করেছে মস্কো।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।